📌 ফরিদপুরের চরাঞ্চলে আগাম ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ১০ বিঘা জমিতে চাষ করে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের আশা করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন দুর্দান্ত হয়েছে
ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আগাম ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রকৃতির রুদ্ররূপ ভুলে চরের বালুময় মাটিতে চাষ করা এই ফুলকপি বাজারে উঠার পর কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন দুর্দান্ত হয়েছে এবং ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা লাভের আশায় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরিদপুরের ৪টি চরাঞ্চলে ১০ বিঘা জমিতে চাষ করা আগাম ফুলকপি বাজারে উঠতে শুরু করবে
- 📌 বিঘা প্রতি ৭০ হাজার টাকা খরচে চাষ করা ফুলকপি বিক্রি হলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভের আশা
- 📌 জেলায় মোট ২৪ হাজার ১২৭ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ
- 📌 রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষিশ্রমিক কাজের তাগিদে চরাঞ্চলে অবস্থান করছেন
- 📌 বীজ ও সার সিন্ডিকেটের কারণে খরচ বেড়ে গেছে, কৃষকরা সহায়তা প্রণোদনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটী এলাকা, গোয়ালন্দের উজানচর, মাইজা মিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গী এবং কবিরপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে এবার ব্যাপকভাবে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মিষ্টি কুমড়ার মতো নানা জাতের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। চাষিরা জানান, আগাম ফুলকপিতে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি দাম পাওয়া যায়। নর্থচ্যানেল এলাকার কৃষক রাশেদ মিয়া ১০ বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন।
এই চরাঞ্চলের সবজি সরাসরি রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাইপাইল ও যাত্রাবাড়ীর আড়তদাররা কিনে নেন। এমনকি রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষিশ্রমিক কাজের তাগিদে এখন চরাঞ্চলে অবস্থান করছেন। তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও কৃষকদের মধ্যে কিছু শঙ্কা রয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে বীজ সিন্ডিকেটের কারণে দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ কৃষকদের।
ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৪ হাজার ১২৭ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতেই করা হয়েছে আগাম জাতের সবজি চাষ। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যায় পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় এবার আগাম ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই চরাঞ্চলে এই আগাম সবজির আবাদ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
"আগাম ফুলকপিতে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি দাম পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর জেলার ভাটী, গোয়ালন্দের উজানচর, মাইজা মিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গী, কবিরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাশেদ মিয়া (কৃষক), মো. আনোয়ার হোসেন (কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বিঘা, ৭০ হাজার টাকা, ৯০ হাজার-১ লাখ টাকা, ২৪ হাজার ১২৭ হেক্টর, ৩ হাজার হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!