📌 চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রাতের অগ্নিকাণ্ডে পপি বেগমের নতুন বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্বামী সৌদি আরবে থাকায় অর্থের অভাবে নির্মিত এই বাড়ি হারিয়ে দু’সন্তান নিয়ে তিনি বাঁচতে অসহায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কোনো মালামাল রক্ষা সম্ভব হয়নি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামে রাতের অগ্নিকাণ্ডে পপি বেগমের সম্পূর্ণ নতুন বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্বামী সৌদি আরবে অবৈধভাবে কর্মরত থাকায় অর্থের অভাবে নির্মিত এই বাড়ি হারিয়ে তিনি দু’সন্তান নিয়ে বাঁচতে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের সব মালামাল পুড়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ফরিদগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই পপি বেগমের নতুন বাড়ি** — সাত বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার ও তিন বছরের ছেলে ফারাজ খানের সাথে তিনি বাঁচতে অসহায়
- 📌 **স্বামী সৌদি আরবে অবৈধ অবস্থানে থাকায় অর্থের অভাবে নির্মিত বাড়ি** — ধারদেনা করে তৈরি করা হয়েছিল দু’সন্তানের জন্য
- 📌 **রাত ১টার আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে পপি বাড়ি ছেড়ে বের হন** — প্রতিবেশীরা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভালেও কোনো মালামাল রক্ষা সম্ভব হয়নি
- 📌 **অগ্নিকাণ্ডের কারণ ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট** — ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলামের কথা
- 📌 **ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে** — পরবর্তী প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য আবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামে সোমবার রাত ১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে পপি বেগমের সম্পূর্ণ নতুন বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। স্বামী মো. রিয়াদ হোসেন প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে জীবিকার সন্ধানে যান। কিন্তু অবৈধ অবস্থানে থাকায় তিনি ঠিকমতো উপার্জন করতে পারছেন না। এই অর্থের অভাবে ধারদেনা করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন পপি। সাত বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার ও তিন বছরের ছেলে ফারাজ খানের জন্য এই বাড়ি ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল।
রাতের অগ্নিকাণ্ডে পপি বেগমের পরিবারের সব মালামাল পুড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পপি বেগমের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সাত বছরের মেয়ে ফাতেমা আর তিন বছরের ছেলে ফারাজকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে যায়। সন্তানদের নিয়ে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভালেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। এখন শিশুসন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ঘরের কোনো মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"আমার সাত বছরের মেয়ে ফাতেমা আর তিন বছরের ছেলে ফারাজকে নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত ১টার দিকে আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে যায়। সন্তানদের নিয়ে এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভালেও কিছুই রক্ষা করা যায়নি। এখন শিশুসন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ ধানুয়া গ্রাম, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পপি বেগম, ফাতেমা আক্তার (৭), ফারাজ খান (৩), মো. রিয়াদ হোসেন, মো. কামরুল ইসলাম, শাহ আলম শেখ, মেহেদী হাসান মানিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ১ টা (ঘটনার সময়), ৭ বছর (ফাতেমা আক্তার), ৩ বছর (ফারাজ খান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!