📌 ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা অতিরিক্ত কমিশন ও অজুহাতি চার্জের অভিযোগ উঠিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সংগঠিত কর্মসূচিতে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের শোষণ ও অর্থপ্রদানের অজুহাতি চাপের বিরুদ্ধে ফুডপান্ডা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আমবারীন এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও, রেস্তোরাঁ মালিকরা তাদের ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত কমিশন ও অজুহাতি চার্জের অভিযোগ তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কমিশন ও অজুহাতি চার্জের অভিযোগ উঠিয়েছেন।
- 📌 এক হাজার টাকার অর্ডারে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন ও চার্জ কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, ফুডপান্ডার মাত্রাতিরিক্ত কমিশন ও চার্জের কারণে বহু রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে।
- 📌 চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছে।
- 📌 রাইডারদেরও শোষণের অভিযোগ উঠেছে; সাইকেলে ডেলিভারি করতে বাধ্য করা এবং লেট চার্জের অজুহাতি অর্থ কাটা।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী তানভীর সোহেল ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নানা প্রলোভন দেখিয়ে রেস্তোরাঁগুলোকে ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে যুক্ত করে। এরপর শুরু হয় শোষণের খড়্গ। তিনি বলেন, এক হাজার টাকার অর্ডারে কমিশনসহ বিভিন্ন অজুহাতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৫০ টাকাই ফুডপান্ডার ডেলিভারি কমিশন। তিনি প্রশ্ন তুলেন যে, এক হাজার টাকার খাবার বিক্রি করে একজন রেস্তোরাঁ মালিক কত টাকা লাভ করবেন? ফুডপান্ডার মাত্রাতিরিক্ত কমিশনের চাপে চট্টগ্রামের বহু রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
অপর এক ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, নির্ধারিত কমিশনের বাইরে বিজ্ঞাপন, প্রিমিয়াম প্লেসমেন্ট ও নানা ছাড় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে বিক্রি বাড়লেও লোকসান গুনতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। এছাড়া অর্থ পরিশোধ, বিভিন্ন খাতে অর্থ কর্তন ও প্রকৃত পাওনার হিসাবে ফুডপান্ডার কোনো স্বচ্ছতা নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডাকে কমিশন ও চার্জ দেওয়ার পর খাবার তৈরির উপকরণ, কর্মীদের বেতন, প্যাকেজিং এবং দোকান পরিচালনার খরচ মিটিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই অবস্থায় চট্টগ্রাম রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে কর্মসূচি গ্রহণ করে। গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রামের মুরাদপুরে সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকেরা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা, অতিরিক্ত চার্জের স্বচ্ছ হিসাব, অর্ডার বাতিলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রেস্তোরাঁর আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা করা।
রাইডারদের শোষণের অভিযোগ শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেই শেষ হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাইডার বলেন, সময় বাঁচাতে মোটরসাইকেলের বদলে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ভাবমূর্তি রক্ষা করতে যানজটের মধ্যে সাইকেল কাঁধে নিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পৌঁছে দিতে হয়। সামান্য কয়েক মিনিট দেরি হলেই রাইডারদের ওপর ‘লেট চার্জ’ আরোপ করে ফুডপান্ডা। গ্রাহকের কাছ থেকে ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার পরও রাইডারদের কাছ থেকে টাকা কাটা অত্যন্ত অমানবিক বলে অভিযোগ উঠেছে।
"নানা প্রলোভন দেখিয়ে ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে রেস্তোরাঁগুলোকে যুক্ত করে ফুডপান্ডা। এরপর শুরু হয় শোষণের খড়্গ। এক হাজার টাকার অর্ডারে কমিশনসহ বিভিন্ন অজুহাতে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, মুরাদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানভীর সোহেল, আবুল কালাম, সৈয়দা আমবারীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫০-৫০০ টাকা (কমিশন), ৩৫০ টাকা (ডেলিভারি কমিশন), ১০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!