📌 ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় শুক্রবার রাতে অটোরিকশা চালক আবদুল হককে (৪৫) দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত আবদুল হক কিস্তিতে অটোরিকশা কিনে সংসার চালাতেন। শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় শুক্রবার রাতে অটোরিকশা চালক আবদুল হককে (৪৫) দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি সংসারের সচ্ছলতা আনতে কিস্তিতে অটোরিকশা কিনেছিলেন। শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫ বছর বয়সী আবদুল হক (মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামের বাসিন্দা) শুক্রবার রাতে ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে দুর্বৃত্তদের দ্বারা হত্যা হন।
- 📌 মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে পরিচিত আবদুল হক সংসারের সচ্ছলতা আনতে এক মাস আগে কিস্তিতে অটোরিকশা কিনেছিলেন।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুল হককে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
- 📌 পুলিশের ধারণা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় শুক্রবার রাতে অটোরিকশা চালক আবদুল হককে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদগাজী বাজার থেকে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে আবদুল হককে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আবদুল হক মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামের ওসমান হাওলাদারের ছেলে। তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা আনতে এক মাস আগে তিনি কিস্তিতে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। তার বড় ছেলে মোহাম্মদ সিফাত হোসেন বলেন, ‘বাবা মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। সংসারের কিছুটা সচ্ছলতার জন্য এক মাস আগে কিস্তিতে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেই অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চলত। আমরা খুবই দরিদ্র। একদিকে ঋণের কিস্তি, অপর দিকে বাবাকে হারালাম। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মুন্সী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘হুজুর আবদুল হক নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি সংসারে সচ্ছলতা আনতে কিছুদিন সবজিও বিক্রি করেছিলেন। মাসখানেক আগে অটোরিকশা কিস্তিতে কিনে সংসারের খরচ চালাচ্ছিলেন। নিরীহ মানুষটিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুল হককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁর পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি অটোরিকশা চালাতেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
"আমরা খুবই দরিদ্র। একদিকে ঋণের কিস্তি, অপর দিকে বাবাকে হারালাম। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়ক, বাংলাবাজার এলাকা, মহামায়া ইউনিয়ন, মাটিয়াগোদা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল হক (৪৫), মোহাম্মদ সিফাত হোসেন, মুন্সী আবদুল কাইয়ুম, ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতাল, ৪৫ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!