📌 মানিকগঞ্জের আলী হোসেন তিন মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রী আলেয়া বেগমকে খুঁজছিলেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে স্ত্রীকে চিনে তিনি দ্রুত গোবিন্দল এলাকায় যান এবং আনন্দে কাঁদলেন। আলেয়াকে সাটুরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
মানিকগঞ্জের আলী হোসেন তিন মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রী আলেয়া বেগমকে খুঁজছিলেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, মাজার, হাসপাতাল — সব জায়গায় খোঁজা বাদ রাখেননি। কিন্তু ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে তিনি স্ত্রীকে চিনতে পেরেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সিঙ্গাইরের গোবিন্দল এলাকায় রাস্তার পাশে বসে খাবার চাইছেন এক নারী। আলী হোসেনের চোখ আটকে যায় সেই নারীর মুখে। তিনি নিশ্চিত হন, ওই নারীই তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৫ বছর বয়সী আলী হোসেন** তিন মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রী **আলেয়া বেগম**কে খুঁজছিলেন
- 📌 **ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে** স্ত্রীকে চিনে তিনি দ্রুত **গোবিন্দল এলাকায়** যান
- 📌 **আনন্দে কাঁদলেন দম্পতি** যখন স্বামী স্ত্রীকে রাস্তার পাশে দেখলেন
- 📌 **আলেয়াকে সাটুরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি** করা হয়েছে দুর্বলতার কারণে
- 📌 **২০০১ সালে বিয়ে** করেছিলেন আলী হোসেন ও আলেয়া
- 📌 **২৩ বছর বয়সী বড় ছেলে** বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন
- 📌 **৯ দিনের আগে** আলেয়া একবার নিখোঁজ ছিলেন, এবার **২৩ দিন** ধরে নিখোঁজ ছিলেন
📰 বিস্তারিত
আলী হোসেন (৫৫) মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগমের মানসিক সমস্যা রয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আলী হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে নিয়ে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার প্রায় দুই মাস ২৩ দিন তাঁকে খুঁজেছি। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সব জায়গায় খুঁজেছি। তাঁকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’
আলেয়া বেগমের শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া এলাকায়। প্রায় ছয় বছর আগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে রাজধানীর একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হন। কিন্তু এবার আবার অসুস্থ হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। আলেয়া এখন মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ হলেও শারীরিকভাবে দুর্বল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্বলতার কারণে তাঁকে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে ২৩ বছর বয়সী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আরেক ছেলে আট বছর বয়সী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। নিখোঁজের পর আলেয়া নিজের নাম-ঠিকানা বলতে পারছিলেন না। সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে তাঁকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখছিলেন।
স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর **রবিউল হক** আলেয়ার অসহায় অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশিত হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আলী হোসেন ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হন যে, ওই নারী তাঁর স্ত্রী। তিনি দ্রুত গোবিন্দল এলাকায় যান এবং স্ত্রীকে দেখে আনন্দে কাঁদতে থাকেন। আলেয়াও স্বামীকে চিনতে পেরেছিলেন। আলী হোসেন বলেন, ‘ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। দ্রুত সেখানে চলে যাই। কাছে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার স্ত্রী। এত দিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। আমি তাঁকে ফিরে পেয়েছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
"ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। দ্রুত সেখানে চলে যাই। কাছে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার স্ত্রী। এত দিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিঙ্গাইর গোবিন্দল, মানিকগঞ্জ; সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মানিকগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী হোসেন (৫৫), আলেয়া বেগম, রবিউল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ বছর (আলী হোসেন), ২৮ সেপ্টেম্বর (ভিডিও দেখার তারিখ), ২৩ দিন (নিখোঁজ), ২৩ বছর (বড় ছেলের বয়স), ৯ দিন (পূর্ববর্তী নিখোঁজ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!