📌 ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নর্থ সাউথ রোডের মূল সড়ককে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে। প্রশাসক মো. আবদুস সালামের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ঢাকার গুলিস্তান থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে আবারো হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রশাসক মো. আবদুস সালামের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি ঘোষণা দেন যে, এখানে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাতকে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ডিএসসিসি।
- 📌 প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঘোষণা দেন যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- 📌 রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসতে পারবেন, কিন্তু নির্ধারিত স্থান ও সময়ের বাইরে হকার বসতে নিষেধ।
- 📌 হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি নিয়ে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জানান। পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
- 📌 ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২২ সালেও গুলিস্তানের সড়ক হকারমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বরও ডিএসসিসি গুলিস্তানের অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণের অভিযান চালিয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাতকে হকারমুক্ত ঘোষণা করে। প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এক ঘণ্টার বেশি সময় এই এলাকার দখলমুক্তকরণের কার্যক্রম তদারক করেন। তিনি বলেন, এখানে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক জানান, রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসতে পারবেন। তবে নির্ধারিত স্থান, সময় ও সংখ্যার বাইরে হকার বসতে নিষেধ। তিনি আরও বলেন, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি নিয়ে প্রশাসক মন্ত্রণালয়ের কাছে জানান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
গত এক দশকে গুলিস্তানে সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাবেক দুই মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের আমলে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। সে বছর জুনে তিনি সড়কে হকার বসতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন। অক্টোবরেও অভিযান চালাতে গিয়ে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গুলিস্তানের হকারদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হয়। কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার আগে সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসতে পারবেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং নির্ধারিত সময়ের পর ব্যবসার সুযোগ রাখা হয়। ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ১৫ জানুয়ারি থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আমলে গুলিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়। ওই সময় নগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। চলতি মাসের ৩ সেপ্টেম্বর ও ২০ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি গুলিস্তানের সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণের অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
"এসব মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, গুলিস্তান (পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, শেখ ফজলে নূর তাপস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ জানুয়ারি (২০১৭), ৩ সেপ্টেম্বর (২০২৬), ৩২ হাজার টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!