📌 খুলনা থেকে এক গৃহবধূ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি দাবি করেন, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের পর তার প্রতিবন্ধী সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগে স্বামী তালাক দাবি করলেও নারী আশ্রয় চায়
খুলনা থেকে এক গৃহবধূ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন। ফাতেমা তুজ জোহরা নামের এই নারী ১ অক্টোবর খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিবন্ধী শিশুসন্তানকে পাশে রেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের পর তার প্রতিবন্ধী সন্তান নষ্ট হয়ে যায় এবং ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা থেকে এক গৃহবধূ ফাতেমা তুজ জোহরা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হন।
- 📌 ২০২১ সালের ১ অক্টোবর লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা এলাকায় মো. আলমগীরের সাথে তার বিয়ে হয়।
- 📌 প্রবাসী বোনের সহায়তায় স্বামীকে ব্যাংকার হিসেবে চাকরি দিলেও নির্যাতন থামেনি।
- 📌 ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করে স্বামীর নামে বাড়ি নির্মাণ ও ৫ লাখ টাকা এফডিআর করে দিলেও নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে তার অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
- 📌 স্বামী আলমগীর হোসেন দাবি করেন, ১৭ সেপ্টেম্বর কাজি অফিসে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।
- 📌 লবণচরা থানার ওসি জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- 📌 কক্সবাজারে হোটেলের শৌচাগার থেকে এক নারীকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্বামী পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি পলাতক।
📰 বিস্তারিত
ফাতেমা তুজ জোহরা নিজেকে একজন কন্যাসন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো বাবার সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না, আমি বাঁচতে চাই’। খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে স্বামী, ননদ ও ভাসুরের বিরুদ্ধে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা এলাকার মোতালেবের ছেলে মো. আলমগীরের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের আর্থিক সহযোগিতায় জনতা ব্যাংকে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। শুধু তা-ই নয়, ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করে স্বামীর জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ এবং নিজের জমানো ৫ লাখ টাকার এফডিআর করে দেন স্বামীর নামে।
ফাতেমা অভিযোগ করেন, সংসার ভালোই চলছিল। তবে ভাসুর জাহাঙ্গীর আলমের কুদৃষ্টি পড়ে তাঁর ওপর। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ননদ হাসনা হেনাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নির্যাতন শুরু করেন ভাসুর। এমনকি তাঁর সন্তান নিয়েও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁদের প্ররোচনায় স্বামী আলমগীর যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর চরম নির্যাতন শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আলমগীরসহ অন্যরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে ফাতেমার অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর পর থেকে তাঁকে ঘরে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান ফাতেমা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাতেমার স্বামী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাজি অফিসে সশরীরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ওই গৃহবধূর করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁরা জামিনে বেরিয়েছেন। সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
অপরদিকে, কক্সবাজার শহরের স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের শৌচাগার থেকে কুলছুমা আকতার নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, স্বামী পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি পলাতক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই হোটেলকর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
"আমি নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না, আমি বাঁচতে চাই। প্রবাসী দুই বোনের সহায়তায় ব্যাংকার স্বামীর পেছনে টাকা ঢেলেছি, বাড়ি করে দিয়েছি—তবুও রেহাই পেলাম না। আজ এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব?" — ফাতেমা তুজ জোহরা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা প্রেসক্লাব, লবণচরা থানা (উত্তর হরিণটানা), কক্সবাজার (স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতেমা তুজ জোহরা, আলমগীর হোসেন, মো. আলমগীর, ভাসুর জাহাঙ্গীর আলম, ননদ হাসনা হেনা, কুলছুমা আকতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর (বিয়ের তারিখ), ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা (বাড়ি নির্মাণ), ৫ লাখ টাকা (এফডিআর), ২৩ সেপ্টেম্বর (ঘর ছাড়ার তারিখ), ১৭ সেপ্টেম্বর (তালাক দাবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!