📌 ঢাকার শাহবাগ থানা এলাকায় গত ২১ মাসে ১৬০টি লাশ উদ্ধার হলেও মাত্র ২৭টির পরিচয় মিলেছে। ৮৩% লাশ অজ্ঞাতনামা। সমাজবিজ্ঞানী ও পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভাসমান মানুষের বসবাসের এলাকায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া তাদের মৃত্যুর পর পরিচয়হীন হয়ে যাওয়ার কারণ
ঢাকার শাহবাগ এলাকায় অজ্ঞাতনামা লাশের অদ্ভুত সারি ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২১ মাসে এই এলাকায় উদ্ধার হওয়া ১৬০টি লাশের মধ্যে মাত্র ২৭টির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ লাশের পরিচয় অজানা। এই তথ্য প্রকাশ করেছে সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদন, যেখানে পুলিশের তথ্য ও সমাজবিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত এক মাসে শাহবাগ থানা এলাকায় ১৫টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে, সবগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে
- 📌 গত ৯ মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও আশপাশে ৭৯টি লাশ উদ্ধার হলেও মাত্র ১৪ জনের পরিচয় জানা গেছে
- 📌 ২০২৫ সালে ৮১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হলেও শুধুমাত্র ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল
- 📌 ২০২৩-২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে ৪৬০টি (২০২৬), ৬৪৪টি (২০২৫), ৫৭০টি (২০২৪) ও ৪৯০টি (২০২৩) লাশ দাফন করা হয়েছে
- 📌 শাহবাগ এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষের বসবাস, তাদের মধ্যে অনেকেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করে
📰 বিস্তারিত
শাহবাগ থানা এলাকায় অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে এই এলাকায় ৭৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। বাকি ৬৫ জনের পরিচয় অজানা। এই তথ্য শাহবাগ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই এলাকায় ৮১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে শুধুমাত্র ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
এই এলাকায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া ভাসমান মানুষের মৃত্যু তাদের পরিচয়হীন করে তোলে। শাহবাগ এলাকায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, চানখাঁরপুল, হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে অনেকেই দিনের কাজে মেট্রো স্টেশনের নিচে বা কার্জন হলের ফুটপাথে শুয়ে থাকে। কিছু মানুষ হাইকোর্টের মাজারে খিচুড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে, অন্যরা আশপাশের দোকানিদের করুণার ওপর নির্ভর করে।
সমাজবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, সরকারের দায়িত্বে রয়েছে এই ভাসমান মানুষদের পরিচয় সংগ্রহ ও তালিকা করা। এতে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং মৃত্যুর পর তাদের লাশ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া যাবে। তিনি আরও বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন দফতর এই দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা সমাজের চেতনাশূন্যতার প্রমাণ।
"সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর ভাসমান মানুষের পরিচয় সংগ্রহ বা তালিকা করা প্রয়োজন। এতে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে চিহ্নিত করা যাবে, তেমনি মৃত্যুর পর তাদের লাশ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব।"
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে ৪৬০টি লাশ দাফন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি। এই তথ্যগুলো সমাজে ভাসমান মানুষের সংখ্যা ও তাদের মৃত্যুর পর পরিচয়হীন হয়ে যাওয়ার সমস্যার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, শাহবাগ থানা এলাকা (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, হাইকোর্ট মাজার, চানখাঁরপুল, দোয়েল চত্বর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. তৌহিদুল হক (সমাজবিজ্ঞানী), মুফিদুল ইসলাম (আঞ্জুমান সংস্থা), পুলিশের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬০টি লাশ (২১ মাসে), ২৭টি পরিচিত লাশ, ৮৩% অজ্ঞাতনামা লাশ, ১৫টি লাশ (গত এক মাসে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!