📌 ঢাকার বাস, মিনিবাস ও অন্যান্য পরিবহন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫২ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাস থেকে দিনে ৩ হাজার ১৬০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়, যেখানে কোম্পানির খরচের নামে ২ লাখ ২১ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সড়ক ও টার্মিনাল থেকে দৈনিক ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়
ঢাকার সড়কগুলোতে প্রতিদিন দৈনিক ৫২ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এই চাঁদা তোলার পিছনে রয়েছে পরিবহন মালিকদের অজানা খরচের গল্প। ঢাকার বিভিন্ন বাস স্টপে, টার্মিনালে এবং সড়কপথে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া এই চাঁদা কোম্পানির পরিচালন খরচ, কর্মচারীদের বেতন, পুলিশের টাকা এবং অন্যান্য ফি হিসেবে আদায় করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাস থেকে দিনে ৩ হাজার ১৬০ টাকা চাঁদা তোলা হয়, যেখানে কোম্পানির খরচের নামে ২ লাখ ২১ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।
- 📌 ঢাকার ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়, যার মধ্যে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা পরিবহন মালিক সমিতির নামে।
- 📌 একটি বাসের দৈনিক ২৪টি স্টপে চাঁদা তোলা হয়, যেখানে প্রথম ট্রিপে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ফিরতি পথে ৪৮০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়।
- 📌 ঢাকার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬টি টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে দৈনিক ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।
- 📌 পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেছেন, চাঁদার বড় অংশ পুলিশকে দেওয়া হয়, না হলে পুলিশ মামলা করে।
📰 বিস্তারিত
লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাসের দৈনিক চাঁদা তোলার পরিসংখ্যান আকর্ষণীয়। সাইনবোর্ড থেকে বাইপাইল যাওয়ার পথে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ফিরতি পথে ৪৮০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। পরেরবার যাওয়ার পথে ৫৫০ টাকা এবং ফিরতি পথে আবার ৪৮০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। একটি বাসের দৈনিক ২৪টি স্টপে চাঁদা তোলা হয়, যার মোট পরিমাণ ৩ হাজার ১৬০ টাকা। এই চাঁদা থেকে কোম্পানির পরিচালন বোর্ড, চাঁদা তোলায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা বাবদ খরচ হয় ৬৯২ টাকা।
লাব্বাইক পরিবহনের বাসের সংখ্যা প্রায় ৭০টি। অর্থাৎ প্রতিদিন কোম্পানির খরচের নামে চাঁদা তোলা হয় ২ লাখ ২১ হাজার টাকা। আর টোলসহ কোম্পানির দৈনিক খরচ হয় ৪৮ হাজার ৪৪০ টাকা। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ছয় হাজারের মতো বাস উপযুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে দিনে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার বাস চলাচল করে। সর্বনিম্ন চাঁদার পরিমাণ ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে গড়ে একটি বাস থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা চাঁদা তোলা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ২০০ বাস চলাচল করে ধরে এই হিসাবে দিনে অন্তত ৫২ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়।
লাব্বাইক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাসান চাঁদা তোলার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলব না। আপনার খোঁজ আপনি নেন।’ তবে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম স্বীকার করেছেন, ‘দিনে ৫০ লাখ টাকার মতো চাঁদা উঠতে পারে। পরিবহন মালিকরা কোম্পানি চালানোর নামে এই চাঁদা তোলেন। তবে কোম্পানি চালাতে যতটুকু খরচ প্রয়োজন ততটুকু নেওয়া উচিত। লাব্বাইক যে পরিমাণে চাঁদা নিচ্ছে সেটি অস্বাভাবিক।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজির টাকার বড় একটা অংশ পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে– এ কথার ভিত্তি নেই। তাদের বলেন সব জায়গায় চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিতে। তারপর কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে পুলিশ কীভাবে মামলা দেয় আমি দেখব।’
"দিনে ৫০ লাখ টাকার মতো চাঁদা উঠতে পারে। পরিবহন মালিকরা কোম্পানি চালানোর নামে এই চাঁদা তোলেন। তবে কোম্পানি চালাতে যতটুকু খরচ প্রয়োজন ততটুকু নেওয়া উচিত। লাব্বাইক যে পরিমাণে চাঁদা নিচ্ছে সেটি অস্বাভাবিক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগরী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুল আলম (মহাসচিব), এম এ হাসান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), মো. আনিছুর রহমান (অতিরিক্ত কমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ লাখ টাকা (দৈনিক চাঁদা), ২ লাখ ২১ হাজার টাকা (লাব্বাইক পরিবহনের দৈনিক চাঁদা), ২৪টি স্টপে চাঁদা তোলা, ১ হাজার ৬৫০ টাকা (সর্বোচ্চ চাঁদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!