📌 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটার এলাকায় সড়কদ্বীপের ১১৩ স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষের জন্য শত শত ফুলের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা সড়কের সৌন্দর্য ধ্বংস করছেন বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয়রা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সৌন্দর্য ধ্বংসের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। সড়কদ্বীপের ৫০ হাজারাধিক ফুলের গাছের মধ্যে বকুল, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, করবীসহ শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বাণিজ্যিক সবজি চাষের জন্য। মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ড পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এলাকায় ১১৩টি স্থানে এই অপরাধ ঘটেছে, যা পরিবেশ ও সড়কের সৌন্দর্য উভয় ক্ষেত্রেই মারাত্মক ক্ষতি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬৫ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়কদ্বীপে ২০১৬ সালে ৫০ হাজারাধিক ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
- 📌 ৩২ কিলোমিটার মিরসরাই-সীতাকুণ্ড সড়কখণ্ডে ১১৩টি স্থানে সড়কদ্বীপ দখল করে বেগুন, মুলাশাক, শিমসহ ১০টি জাতের সবজি চাষ করা হচ্ছে।
- 📌 বকুল, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, করবীসহ শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে চাষের জন্য, যা সড়কের ছায়াময় পরিবেশ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করছে।
- 📌 ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ এলাকায় দেখা যায়, কৃষক মো. আবু তাহের করবী গাছের ডাল কেটে মুলাশাক চাষ করছেন।
- 📌 মুলাশাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকা বাজারে বিক্রি করে স্থানীয়রা লাভ করছেন, কিন্তু সড়ক বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
📰 বিস্তারিত
২০১৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৬৫ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক বিভাগের উদ্যোগে ৫০ হাজারাধিক ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল। এসব গাছের মধ্যে ছিল কাঞ্চন, করবী, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম ও পলাশ। এসব গাছের ছায়া ও রং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করত। কিন্তু বর্তমানে সড়কদ্বীপের ১১৩টি স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষের জন্য এই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব কিসমত জাফরাবাদ এলাকায় সড়কের পাশে কৃষক মো. আবু তাহেরের চাষাবাদের জায়গায় দেখা যায়, করবী গাছের ডাল কেটে মুলাশাক চাষ করা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে চাষ করে আমি কোনো ক্ষতি করছি না। জায়গাটি পরিষ্কার রাখছি এবং নিজস্ব খরচ মেটাতে মুলাশাক বিক্রি করছি। প্রতি আঁটি মুলাশাক ৩০ টাকা বাজারে বিক্রি হয়।’
এই এলাকার বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহিন চৌধুরী বলেন, ‘সড়কের ফুলের গাছগুলো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত। কিন্তু এখন গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। সড়ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা সুবাহের প্রধান সমন্বয়ক রিতু পারভী বলেছেন, ‘ফুলের গাছগুলো জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে সড়কের সৌন্দর্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি করছে।’
"এখানে চাষাবাদ করে আমি কোনো ক্ষতি করছি না। চাষ করে বরং জায়গাটি পরিষ্কার রাখছি। পাশাপাশি মুলাশাক করে নিজেও খাই, আবার বিক্রি করে কিছু টাকাও পাই।"
"সড়কের ফুলের গাছগুলো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত। কিন্তু এখন গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। সড়ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (মিরসরাই-সীতাকুণ্ড খণ্ড, ৩২ কিলোমিটার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবু তাহের (কৃষক), মো. শাহিন চৌধুরী (শিক্ষক), রিতু পারভী (পরিবেশবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬৫ কিলোমিটার (মহাসড়কের দৈর্ঘ্য), ৫০ হাজার (ফুলের গাছ), ১১৩ (চাষের স্থান), ৩০ টাকা (মুলাশাক প্রতি আঁটি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!