📌 মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কৃষক জয়দার মিয়ার ১ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করে দিয়েছে। ঋণে গড়া এই বাগান থেকে কলা বিক্রি করে ঋণ শোধ করার আশায় ছিলেন কৃষক। এখন তিনি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় কৃষক জয়দার মিয়ার বহুদিনের পরিশ্রমের ফল। ঋণে গড়া এই কলাবাগান থেকে কলা বিক্রি করে ঋণ শোধ করার আশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয় প্রায় এক হাজার কলাগাছ। এতে কৃষক জয়দার মিয়ার পরিবার পথে বসার মুখে পড়েছে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তিনি মহম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ হাজার কলাগাছ ধ্বংস: রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা জয়দার মিয়ার ১০০ শতক জমিতে গড়ে তোলা কলাবাগান ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে তার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 ঋণে গড়া বাগান: কৃষক জয়দার মিয়া এনজিও ও বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগানটি গড়ে তোলেন।
- 📌 বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি: জয়দার মিয়া সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই’।
- 📌 থানায় অভিযোগ: স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলম নবী ও প্রতিবেশীরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছেন।
- 📌 কৃষি কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া: মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেছেন, প্রায় ৩০০ কলার কাঁদিসহ ১ হাজার গাছ কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারি সহায়তা পেলে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- 📌 পুলিশ তদন্ত: মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামীম আহমেদ জানান, ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
📰 বিস্তারিত
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামে গত শুক্রবার রাতে ঘটে এই ঘটনা। জয়দার মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থানসংলগ্ন ১০০ শতক জমিতে তিনি দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে কলাবাগান গড়ে তোলেন। বাগানটি তৈরি করতে তিনি এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। গাছে গাছে ইতিমধ্যে কলার ছড়া আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা পুরো বাগানটি ধ্বংস করে দেয়। এতে তার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার মিয়া বলেন, ‘এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আর দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন পরই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, তা বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।’
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলম নবী বলেন, ‘জয়দার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক। ঋণ করে বাগানটি করেছিল। ফলন্ত কলাগাছ এভাবে কেটে ফেলা জঘন্য অপরাধ। এতে তার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছি।’ প্রতিবেশী আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাগানের এই অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। একজন কৃষকের সঙ্গে এমন শত্রুতা কোনো মানুষ করতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কলার কাঁদিসহ ১ হাজার গাছ কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা এলে তাকে অগ্রাধিকারভিত্তিক দেওয়া হবে।’
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, কলাগাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
"এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আর দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন পরই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, তা বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা, দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জয়দার মিয়া, আলম নবী, আকিদুল ইসলাম, ইসরাত জাহান শিলু, এম শামীম আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার কলাগাছ, ৫-৬ লাখ টাকা ক্ষতি, ৩-৪ লাখ টাকা ঋণ, ১০০ শতক জমি, ৩০০ কলার কাঁদি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!