📌 খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে বারবার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় এলাকা
খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বটবুনিয়া ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ি এলাকায় এই ধ্বংসাবশেষ ঘটে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, সড়ক ও প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় নদীভাঙনের কারণে বারবার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে আসছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা দাকোপের বটবুনিয়া ইউনিয়নে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে
- 📌 ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কের ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ বলেছেন, প্রতি বছরই বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকে, ৩০ বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে
- 📌 পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু জানান, গত ২ অক্টোবর বাঁধে ফাটল ধরে, সড়কের অর্ধেক নদীতে চলে গেছে
- 📌 দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন এলাকায় জাবেরের খেয়াঘাট থেকে কালাবগী বাজার পর্যন্ত বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত
- 📌 স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় এলাকা
- 📌 দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
- 📌 খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে, শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে
📰 বিস্তারিত
খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ধ্বংসাবশেষ ঘটেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বটবুনিয়া ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ি এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে এলাকার বাড়িঘর, সড়ক ও প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় নদীভাঙনের কারণে বারবার বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন।
বটবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদ বলেছেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।”
পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু জানান, “গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল ধরে। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। পাউবোকে বারবার জানানোর পরও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন তারা।
"প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা, বটবুনিয়া ও পানখালী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদ, রাশেদুল ইসলাম বাবু, বোরহান উদ্দিন মিঠু, মো. রাশিদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ মিটার (বাঁধের অংশ), ৩০০ বিঘা (ফসলি জমি), ৩০ বছর (নদীভাঙনের ইতিহাস), ১০০ মিটার (সড়কের অংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!