📌 জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় যৌতুক দাবি না পূরণে স্বামী ও শ্বশুর সাবেকুনের (২৫) শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে দগ্ধ করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি শিশুসন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। অভিযুক্তরা পলাতক
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় যৌতুক দাবি পূরণ না হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুরের হাতে দগ্ধ হয়ে আজীবন চিকিৎসাধীন সাবেকুনের (২৫) জীবনযাত্রার সাথে লড়াই চলছে। শিশুসন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে তিনি হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **যৌতুক দাবি না পূরণে দগ্ধ**: স্বামী ও শ্বশুর যৌথভাবে সাবেকুনের শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে দগ্ধ করেন।
- 📌 **হাসপাতালে ৫ দিন**: জয়পুরহাটের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন।
- 📌 **শিশুসন্তানের ভয়**: সাড়ে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাঁচার আকুতি সাবেকুনের।
- 📌 **অভিযুক্ত পলাতক**: স্বামী ও শ্বশুর পলাতক, কিন্তু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
- 📌 **মামলা দায়ের হবে**: মেয়ের শারীরিক অবস্থা উন্নত হলে থানায় মামলা দায়েরের কথা জানান বাবা মোশাররফ হোসেন।
📰 বিস্তারিত
সাবেকুনের (২৫) শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে গত ২৫ সেপ্টেম্বর। পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে সাবেকুনের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় বাবা আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর আবারও টাকা চাওয়া সাবেকুন প্রতিরোধ করতে পারেননি।
সাবেকুনের বাবা মোশাররফ হোসেন জানান, পারিবারিক কথা-কাটাকাটির সময় মেয়ের স্বামী ও শ্বশুর তাঁর গায়ে গরম পানি বা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেন। স্থানীয়রা শুনে সাবেকুনের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুর্শিদা পারভীন জলি বলেন, রোগী কোনো দাহ্য বা প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থে দগ্ধ হয়েছেন। এটি গরম পানি নাকি অ্যাসিডজাতীয় কোনো রাসায়নিক, তা পরীক্ষা চলছে।
সাবেকুনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার চিকিৎসা চলমান। অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক থাকলেও, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। মামলা পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"বাবা গরিব। চাইলেও স্বামীর চাওয়া টাকা দিতে পারেননি। এ জন্যই কি আমার গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারা হলো?"
সাবেকুনের জীবনযাত্রার সাথে লড়াই চলছে। নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি সাড়ে তিন মাসের শিশুসন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায়। কোলে সন্তানকে নিয়ে আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কি না—সেই অনিশ্চয়তা তাঁর যাতনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়পুরহাট সদর উপজেলা, কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রাম, পাঁচবিবি উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবেকুন নাহার (২৫), মোশাররফ হোসেন, মুর্শিদা পারভীন জলি, তামবিরুল ইসলাম (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর (সাবেকুনের বয়স), ৪০০ শয্যা (হাসপাতাল), ২৫ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!