📌 পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় আদালতের নির্দেশে মায়ের দায়িত্ব নিলেন সাগর হোসেন। মা-ছেলের দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হয় আদালতের হস্তক্ষেপে। সাগর মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার দেখাশোনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় আদালতের হস্তক্ষেপে মায়ের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন সাগর হোসেন। দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হয় আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। সাগর তার মা মুন্নী খাতুনকে নিজের কাছে নিয়ে আসার পাশাপাশি মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার দেখাশোনার দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাগর হোসেন আদালতের নির্দেশে মা মুন্নী খাতুনকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন এবং তার ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।
- 📌 ১১ অক্টোবর বিকেলে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মা-ছেলের বিরোধের সমাধান হয়।
- 📌 ৮ অক্টোবর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে শুনানিতে সাগর মাকে সঙ্গে রাখতে রাজি হননি।
- 📌 মুন্নী খাতুন বলেন, ‘ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। সব ভুল মাফ করে দিয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছে থাকতে চাই।’
- 📌 সাগর হোসেন আদালতে নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘আগে আবেগের বশে কথা বলেছি। এখন অনুতপ্ত। মাকে নিজের কাছে রেখে দেখাশোনা করতে চাই।’
📰 বিস্তারিত
সাগর হোসেনের মা মুন্নী খাতুনের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হয় আদালতের হস্তক্ষেপে। সাগর তার মাকে নিজের কাছে নিয়ে আসার পাশাপাশি তার ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৩ সালে স্বামী সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুর পর। সাগর ও তার মেয়ে দুজনই তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মুন্নী খাতুন তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়তে চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে মা-ছেলের সম্পর্ক দূরত্বের শিকার হয়। বিশেষ করে সাগরের বিয়ের পর বিরোধ আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
সাগর তার মাকে নিজের কাছে রাখতে চাননি। ভরণপোষণের খরচ দিতে রাজি হলেও একসঙ্গে থাকার বিষয়ে তিনি অনড় ছিলেন। এই বিরোধের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। নানা আলোচনা ও চেষ্টার পর অবশেষে আদালতের উদ্যোগে সমাধান হয়। ১১ অক্টোবর বিকেলে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর বিরোধের সমাধান হয়। সাগর তার মা মুন্নী খাতুনকে নিজের সঙ্গে বাড়িতে নিয়ে যান।
সাগর হোসেনের মা মুন্নী খাতুনের বোনের স্বামী মাসুদ আলম জানান, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতেও শালিস বসে। চেয়ারম্যান মুন্নি খাতুনের জন্য বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থাও করেছিলেন। তবে মা-ছেলের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে অসহায় মুন্নি খাতুনের পাশে দাঁড়ান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চিকিৎসক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। তিনি গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাঁথিয়া পৌরসদরে মুন্নির বোনের বাড়িতে গিয়ে তার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
সাগর হোসেনের মা মুন্নী খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল মাফ করে দিয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই।’ সাগর হোসেন বলেন, ‘আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আগে আবেগের বশে অনেক কথা বলেছি। এখন আমি অনুতপ্ত। মাকে নিজের কাছে রেখে তার দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’
"আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। ছেলের সব ভুল মাফ করে দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা, নাগডেমরা ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাগর হোসেন, মুন্নী খাতুন, সেলিম আহমেদ (ইউএনও), ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান, আনিসুর রহমান (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ অক্টোবর, ৮ অক্টোবর, ৯ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!