📌 সাতক্ষীরার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহাত রাজা কৃষি খাতে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। ফিলিপাইন জাতের আখ চাষের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের আকর্ষণ করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃষির সম্ভাবনা তুলে ধরছেন
সাতক্ষীরা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে সাতক্ষীরার তরুণ রাহাত রাজা। কৃষি ও গ্রামীণ জীবনের গল্প তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ধীরে ধীরে কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। তার উদ্যোগ ‘বৃক্ষ বাড়ি’ নামে একটি কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন, যেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে ফল ও ফসল চাষ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার তরুণ রাহাত রাজা কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন এবং ‘বৃক্ষ বাড়ি’ নামে কৃষি খামার পরিচালনা করছেন
- 📌 ফিলিপাইন জাতের আখ চাষের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের আকর্ষণ করছেন, যেখানে বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃষির সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে কৃষি আগ্রহ জাগিয়ে তুলছেন
- 📌 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও কৃষকদের সহযোগিতা করছে ফিলিপাইন আখ চাষে
📰 বিস্তারিত
রাহাত রাজা তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর জীবন থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এসেছেন। তিনি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ ‘রাহাত রাজা ব্লগে’ মাধ্যমে কৃষকের জীবন ও ফসল উৎপাদনের গল্প তুলে ধরতেন। একসময় রাজশাহীর একটি কুলবাগানে গিয়ে তিনি ফিলিপাইন আখের চাষ দেখেন। বিষয়টি দেখে তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে একজন কৃষক ভাই তাকে ফিলিপাইন জাতের আখের বীজ উপহার দেন। তিনি সেই বীজগুলো তার কৃষি খামারে রোপণ করেন। আখ বড় হওয়ার পর ভালো লাভের পরিস্থিতি দেখা দিলে সাতক্ষীরার কৃষকরা তার কাছ থেকে বীজ নেওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই আখের বীজ ছড়িয়ে পড়ে।
রাহাত রাজা বলেন, ‘আমি মূলত কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করেছি। কৃষি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটিনি। চেষ্টা করেছি নিজেই একটি কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি করতে, যেখানে আরও কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেই উদ্দেশ্যেই এই বাগান করেছি। এখানে মূলত লাভজনক ফল ও ফসল চাষ করি। ফিলিপাইন জাতের আখ অন্যতম।’
ফিলিপাইন জাতের আখ চাষে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। বছরভেদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। রাহাত রাজার উদ্যোগ দেখে সাতক্ষীরায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বিশেষ করে ফিলিপাইন জাতের আখের মিষ্টতা, আকার ও ফলনের কারণে বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে।
রাহাত রাজার সহকর্মী রিজাউল করিম বলেন, ‘রাজার কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি আখ চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি আমার ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই আখ বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভবান হতে পারছি। এই আখ খুবই নরম, রসালো ও মিষ্টি। ফলে যেকোনো বয়সের মানুষ এটি খেতে পারে। আমরা এই চাষ ছড়িয়ে দিচ্ছি। এলাকার আরও অনেক মানুষ আমাদের কাছ থেকে আখের বীজ নিয়ে চাষ করছেন। আমরা অনলাইনেও এই আখের বীজ বিক্রি করছি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খামারবাড়ির পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফিলিপাইন আখ উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিরাপদ ও লাভজনক ফসলে রূপান্তরিত হয়েছে। যারা স্বল্প পরিসরে এই আখ চাষ করতে চাচ্ছেন, আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের আখের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’
"আমি রাজশাহীর একটি কুলবাগানে কনটেন্ট বানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে ফিলিপাইন আখের চাষ দেখি। বিষয়টি দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে আমিরা এগ্রোর এক কৃষক ভাই আমাকে ফিলিপাইন জাতের কিছু আখের বীজ উপহার দেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়ার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহাত রাজা, রিজাউল করিম, কৃষিবিদ ইকবাল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ, ১-১.৫ লাখ টাকা লাভ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!