📌 কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমিন (১৫) ফেসবুকের ১৭ দিনের সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যান। সেখানে অজানা বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে নিখোঁজ হন। পরে সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেন। ঘটনার ৪ দিন পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন (১৫) ফেসবুকের ১৭ দিনের সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যান এবং সেখানে অজানা বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে নিখোঁজ হন। পরে ঘটনাস্থলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সুমন মিয়া (৩৫) তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেন। ঘটনার ৪ দিন পর তার মরদেহ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন (১৫) ফেসবুকের ১৭ দিনের সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যান এবং সেখানে অজানা বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে নিখোঁজ হন।
- 📌 সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সুমন মিয়া (৩৫) তাকে ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
- 📌 ঘটনার ৪ দিন পর (৬ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর) তার মরদেহ কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় উদ্ধার করা হয়।
- 📌 তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে। তখন মেয়েটি বলেছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে।
- 📌 পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মাত্র একজন জড়িত — সুমন মিয়া, যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমিন (১৫) ফেসবুকের মাধ্যমে রাজু চৌধুরী (২০) নামের এক যুবকের সাথে ১৭ দিনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায় এবং সেখান থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যান। যাওয়ার সময় মাকে জানান যে, বান্ধবীর বাড়িতে যাচ্ছে।
কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে এ ঘটনা ধরা পড়েছে। কক্সবাজারের কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসেন। পরদিন বুধবারের জন্য টিকিট কাটে রাজু।
হত্যাকাণ্ডের পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হন এবং মেয়েটিকে তাজমিন বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ জানতে চাইলে তিনি আগে থেকে প্রস্তুতি নেন। পরে জানতে পারেন যে, সঙ্গে আসা ছেলেটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে মাত্র একজন জড়িত — সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সুমন মিয়া (৩৫)। সুমন ঘটনাস্থলে তাজমিনকে ধর্ষণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়।
তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিলেন, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি। মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি।
"আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন।"
তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তাজমিনের বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। পুলিশ জানায়, সুমন মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মনে করেন, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক না হলে তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না। এতে মৃত্যুর মতো বিপদ থেকে হয়ত সে বেঁচে যেত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, কক্সবাজার, লালমাই উপজেলা (জগতপুর গ্রাম), পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাজমিন (১৫), মো. সুমন মিয়া (৩৫), কেয়া খাতুন, রাজু চৌধুরী (২০), আবদুল্লাহ, সাদ বিন এরশাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ দিনের সম্পর্ক, ১৫ বছর বয়স, ৩৫ বছর বয়স, ৬ অক্টোবর, ৮ টা, ১২ টা, ৩৫ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!