📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার আশাশুনি উপকূলীয় এলাকায় ২৩টি গ্রামের ৮০% শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পুরুষরা কাজের খোঁজে দূরদেশে যাচ্ছেন, মেয়েরা যশোরে ‘মেলা তেল’ খোঁজে পাচারবাজারে পড়ে যাচ্ছেন। শিশু পাচার ও শ্রমপাচারের বিরুদ্ধে ‘বাবুই পাখি’ কমিউনিটি শিশুদের সংগঠিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে
বাংলাদেশের সাতক্ষীরার আশাশুনি উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২৩টি গ্রামের মানুষ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছেন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকায় কোনো আশা নেই। প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২৩টি গ্রামের মধ্যে হাওলাদার পাড়া, হরিশখালী, কুড়িকাহুনিয়া, শ্রীপুর, বনতলা ও দিঘলারাইটের মতো এলাকাগুলো আস্তে আস্তে খালি হয়ে যাচ্ছে। মানুষের দূরদেশে চলে যাওয়াই মূল সমস্যা — বড়রা চলে গেলে শিশুদের অরক্ষিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৩টি গ্রামের ৮০% শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে** — ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৬ জন পাস করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫ জন বেশি ফেল।
- 📌 **পুরুষরা কাজের খোঁজে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জে চলে যাচ্ছেন**, মেয়েরা যশোরে ‘মেলা তেল’ খোঁজে পাচারবাজারে পড়ে যাচ্ছেন।
- 📌 **শিশু পাচার ও শ্রমপাচারের বিরুদ্ধে ‘বাবুই পাখি’ কমিউনিটি** — হাওলাদার পাড়ার তামান্না সুলতানা ও তার সহকর্মীরা শিশু-কিশোরদের সংগঠিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
- 📌 **ইটভাটায় শ্রমপাচারের শিকার ৮৪% গ্রামের শিশু** — আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ইটভাটায় কাজে যোগ দেওয়ার আগে গ্রামের প্রায় ৮৪% শিশু নিয়মিত স্কুলে যেত।
- 📌 **১০টি জেলায় রিজার্ভ বাসে শিশু পাচার** — সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইটভাটার মৌসুমে কমপক্ষে ১০টি জেলায় শিশুদের পাচার করা হয়।
📰 বিস্তারিত
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের হাওলাদার পাড়ায় ২৩টি গ্রামের মধ্যে হাওলাদার পাড়া, হরিশখালী, কুড়িকাহুনিয়া, শ্রীপুর, বনতলা ও দিঘলারাইটের মতো এলাকাগুলো ক্রমশ খালি হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় শিশু-কিশোরদের কথা শুনলে বুঝা যায়, ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ মানে নদীতে তলিয়ে যাওয়া নয় — বরং মানুষ দূরদেশে চলে যাচ্ছেন। পুরুষরা কাজের খোঁজে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জে চলে যাচ্ছেন, মেয়েরা যশোরে ‘মেলা তেল’ খোঁজে পাচারবাজারে পড়ে যাচ্ছেন।
হাওলাদার পাড়ার তামান্না সুলতানা বলেন, ‘মেয়েরা যায়, আবার ফিরে আসে। কিন্তু পুরুষেরা গেলে ফিরে আসে কম। বড়রা চলে গেলে শিশু পাচার বেড়ে যায়। বাঘের চেয়ে দুষ্ট মানুষের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করা বেশি কঠিন।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিশুরা নিরাপদ পানির সংকট, স্কুলে যাতায়াতের সমস্যা, খোসপাঁচড়া, ডায়রিয়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের সমস্যায় ভুগছেন।’
তামান্না ‘বাবুই পাখি’ কমিউনিটি শিশু দলের প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামভিত্তিক শিশু-কিশোর দল গড়ে তুলেছি। জলবায়ু পরিবর্তন তাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে এবং তা মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে আমরা কী উদ্যোগ নিয়েছি — সেসবের হিসাব-নিকাশের জন্য খুলনার শিশুদের প্রতিনিধি তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেবেন।’
তামান্না পড়ে প্রতাপনগর এলাকার ইউনাইটেড একাডেমি স্কুলে। তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৬ জন পাস করেছে — যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫ জন বেশি ফেল। ২০২১-২০২২ সালে প্রায় ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা বেশি — কার্তিক মাসে ইটভাটায় কাজ করতে চলে যাওয়া ছেলেরা বার্ষিক পরীক্ষা দিতে ফিরে আসে না।
"মা অনেক কষ্ট করে আমার পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছিল। গ্রামে এখন তেমন কাজ নাই। বর্ষাকালে মা সংসার চালানোর জন্য সরদারের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল।"
— আব্বাস (১২-১৩ বছর), কুমিল্লা অঞ্চলের ইটভাটার কর্মী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আশাশুনি, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ (হাওলাদার পাড়া, হরিশখালী, কুড়িকাহুনিয়া, শ্রীপুর, বনতলা, দিঘলারাইট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তামান্না সুলতানা (হাওলাদার পাড়া), শিশু-কিশোরদের ‘বাবুই পাখি’ কমিউনিটি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩টি গ্রাম, ৬২ জন পরীক্ষার্থী (২০২৬ এসএসসি), ২৬ জন পাস, ১৫ জন ফেল, ১৪% শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, ৮৪% গ্রামের শিশু ইটভাটায় শ্রমপাচারের শিকার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!