📌 পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ১২-১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কাজী নজমুজ্জামান জানান, মালামাল না সরালে আবার আগুন ধরে যেতে পারে। সাততলা ও ছয়তলা মার্কেটে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল
পুরান ঢাকার চকবাজারে গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডে মনসুর খান প্লাজা মার্কেটের ১২ থেকে ১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছয়তলা ও সাততলায় আগুন বেশি ছড়ায় এবং সাততলার কিছু অংশও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের মালামাল না সরালে আবারও আগুন ধরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চকবাজারের মনসুর খান প্লাজা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ১২-১৪টি গুদামসহ সাত-আটটি দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন ধরে যেতে পারে
- 📌 ছয়তলা ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল
- 📌 গুদামগুলো শাটার ও একাধিক তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল
- 📌 সাততলায় ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল
- 📌 আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন
- 📌 অগ্নিকাণ্ডে চারজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য আহত হয়েছে, কোনো নিহতের খবর নেই
- 📌 আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে
📰 বিস্তারিত
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান (কাজী নাজমুল জামান) জানান, মার্কেটের ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ বিভিন্ন পণ্যে গুদামগুলো পরিপূর্ণ ছিল। এসব পণ্যের নিচে তাপ ও ধোঁয়া থাকায় সেগুলো সরিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মালামাল সরানো না হলে আবার আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
কাজী নজমুজ্জামান জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে লালবাগ, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার ও পলাশী থেকে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোর ৫টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, ছয়তলা ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ ছিল। গুদামগুলো শাটার ও একাধিক তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে গুদামে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের।
অগ্নিকাণ্ডের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে কাজী নাজমুল জামান বলেন, চকবাজারের সরু সড়ক ও যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার ফাইটারদের প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আশপাশের পানির রিজার্ভারগুলো বারবার খালি হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহেও সমস্যা হয়েছিল। পরে রিজার্ভার পরিবর্তন করে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনা থাকলেও তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন যেন আশপাশের মার্কেট ও ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মার্কেটের স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করেছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষও পানি সরবরাহ করেছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
"গুদামে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল, কিন্তু আগুনের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। সলিড ফায়ার হওয়ায় পানি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি বা পেট্রোলজাতীয় পদার্থে আগুন লাগলে ফোম ব্যবহার করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মনসুর খান প্লাজা মার্কেট, চকবাজার, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী নজমুজ্জামান (ফায়ার সার্ভিস সহকারী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২-১৪টি গুদাম, ৫টা ৪ মিনিট (অগ্নিকাণ্ড শুরু), ৫টা ৫ মিনিট (আগুন নিয়ন্ত্রণ), ৪ জন আহত ফায়ার সার্ভিস সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!