📌 চট্টগ্রামে পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি ভোরে ছুরি হাতে বেরিয়ে পথচারীদের মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন এবং জিনিসপত্র দিতে দেরি করলে ছুরিকাঘাত করেন। গত শনিবার তার ছুরিকাঘাতের ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে
চট্টগ্রামের পথচারীদের ভীতিকর হয়ে উঠেছে পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দাম হোসেনের কারণে। তিনি ভোরের আলো ফোটার আগেই ছুরি হাতে বেরিয়ে পথচারীদের মুঠোফোন ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেন। জিনিসপত্র দিতে দেরি করলে ছুরিকাঘাতের হুমকি দেন। গত শনিবার তার ছুরিকাঘাতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে পেশাদার ছিনতাইকারী সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে, তিনি ভোরে ছুরি হাতে বেরিয়ে পথচারীদের আক্রমণ করেন
- 📌 গত শনিবার ভোরে কোতোয়ালি থানার পেছনে সতীশবাবু লেনে এক রিকশাযাত্রীর পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সাদ্দাম তাকে ছুরিকাঘাত করেন
- 📌 সাদ্দামের লক্ষ্য মুঠোফোন ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, জিনিসপত্র দিতে দেরি করলে ছুরিকাঘাত করেন
- 📌 গত রোববার সাদ্দামকে কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকায় বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নগরের ১৬টি থানায় ৮১টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সাদ্দাম হোসেন একসময় মাছের ব্যবসা করতেন, কিন্তু জুয়া ও নেশার টাকা জোগাড় করতে ব্যবসা ছেড়ে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েন। তিনি দিনে ঘুমান এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই ছুরি হাতে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম এখন পেশাদার ছিনতাইকারী। তিনি দ্রুত ছিনতাইয়ের কাজ শেষ করার চেষ্টা করেন। যাতে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়া সম্ভব হয়। তবে মানুষ সহজে জিনিসপত্র দিতে চান না, তাই দেরি করলে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
গত শনিবার ভোরে নগরের কোতোয়ালি থানার পেছনে সতীশবাবু লেনে এক রিকশাযাত্রীর পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সাদ্দাম তাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে আক্রমণ করেন। ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে। পরে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে নগরের ১৬টি থানায় ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ৮১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে জুলাইয়ে ১৫টি, আগস্টে ১৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৩টি এবং জানুয়ারিতে ১০টি। সবচেয়ে কম মামলা হয়েছে মে মাসে, মাত্র তিনটি। নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যেমন নিউমার্কেট, কোতোয়ালি মোড়, সিআরবি, কদমতলী, রেলস্টেশন, সদরঘাট, পাথরঘাটা, লালখান বাজার, কাজীর দেউড়ি, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চকবাজার, দেওয়ানবাজার, অক্সিজেন মোড়, শেরশাহ, বহদ্দারহাট, ইপিজেড, অলংকার মোড়, ফয়’স লেক, খুলশীসহ অন্তত শতাধিক স্থানে।
"জিনিসপত্র দিতে দেরি হলেই ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। আঘাতে মানুষ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, সেটি তিনি বিবেচনায় নেন না। কম সময়ে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।"
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার শেখ শরীফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে। সাদ্দামকে শনাক্ত করে রোববার বিকেলে কর্ণফুলীর শিকলবাহায় তার বাড়িতে গ্রেপ্তার করা হয়। সাদ্দামের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ১০টি মামলা রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, কর্ণফুলী থানা (শিকলবাহা), কোতোয়ালি থানা (সতীশবাবু লেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাদ্দাম হোসেন, শেখ শরীফুল ইসলাম (উপকমিশনার), মনির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০টি মামলা, ৮১টি মামলা (৮ মাসে), ১৬টি থানা, ৬টা ৪০ মিনিট (ঘটনার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!