📌 চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় দুটি কিশোর গ্যাংের মধ্যে বিরোধের জেরে ১৬ বছর বয়সী হৃদয়কে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, সপ্তাহখানেক আগে টিকটকে কিরিচ হাতে ভিডিও পোস্ট করা একই গ্যাংের সদস্যরা কিরিচেই তাকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তার করা ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন ১৪-১৫ বছর বয়সী
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় দুটি কিশোর গ্যাংের মধ্যে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে ১৬ বছর বয়সী হৃদয়কে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্যাংের সদস্যরা সপ্তাহখানেক আগে টিকটকে কিরিচ হাতে ভিডিও পোস্ট করেছিল। সেই কিরিচেই পরে হৃদয়ের কানে কোপ দেওয়া হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে রক্তমাখা কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার ওয়্যারলেস কলোনিতে দুটি কিশোর গ্যাংের মধ্যে বিরোধের জেরে ১৬ বছর বয়সী হৃদয়কে হত্যা করা হয়।
- 📌 পুলিশ জানায়, সপ্তাহখানেক আগে টিকটকে কিরিচ হাতে ভিডিও পোস্ট করা একই গ্যাংের সদস্যরা কিরিচেই তাকে হত্যা করেছে।
- 📌 গ্রেপ্তার করা ছয়জনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক (২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ কামরুল) এবং পাঁচজন ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোর।
- 📌 হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্যাংদের নাম ‘সেভেন স্টার’ এবং ‘ফাইভ স্টার’। ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংের নেতৃত্বে ছিলেন পলাতক ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা।
- 📌 নিহত হৃদয় তার বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রিতে সহযোগিতা করতেন। তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনিতে গড়ে উঠেছে দুটি কিশোর গ্যাং — ‘সেভেন স্টার’ এবং ‘ফাইভ স্টার’। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংের সদস্যরা সপ্তাহখানেক আগে টিকটকে কিরিচ হাতে ভিডিও পোস্ট করেছিল। সেই কিরিচেই পরে হৃদয়কে হত্যা করা হয়। পুলিশের তথ্য মতে, মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদ কামরুল (২৫) নামের এক যুবক হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বাসার পাশে তালতলা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হৃদয়কে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ফেলে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে কিরিচ দিয়ে হৃদয়ের কানে কোপ দেয়। এরপর আরও কিশোররা তাকে ছুরি দিয়ে পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ঘটনার সময় সড়কে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কেউ হৃদয়কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে রক্তমাখা কিরিচটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য হৃদয় তার বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রিতে সহযোগিতা করতেন। পুলিশের অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচজন ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোর। ওসি আবদুর রহিম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য হৃদয়ের সঙ্গে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যদের সপ্তাহখানেক আগে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা করার পর হৃদয় বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংটি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা ও তার ভাই রকিবুল ইসলামের নির্দেশে পরিচালিত হয়। গত ৮ জুন সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে ওয়াকিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি বর্তমানে পলাতক। তবে ওয়াকিলের ভাই রকি হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
"‘নিহত হৃদয়কে আমি চিনি না। আমার কোনো কিশোর গ্যাং নেই। ওই এলাকা (ওয়্যারলেস) সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই’ — খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার ওয়্যারলেস কলোনি ও তালতলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ কামরুল (২৫), হৃদয় (১৬), ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা, হেলাল উদ্দিন, রকিবুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪-১৫ বছর (কিশোরদের বয়স), ২৫ বছর (মোহাম্মদ কামরুল), ১৬ বছর (হৃদয়), ৮ জুন (ওয়াকিল বহিষ্কৃত তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!