📌 চরফ্যাশনের জেলেরা ইলিশের প্রজনন নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন অন্যরা
চরফ্যাশনের জেলেরা ইলিশের প্রজনন নিষেধাজ্ঞায় সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য তাদের তালিকায় নাম থাকলেও প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন অন্যরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় চরফ্যাশনের জেলেদের খাদ্য সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
- 📌 প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা জেলেদের ক্ষোভের কারণ
- 📌 মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে খাদ্যসংকটে পড়ছেন তারা
- 📌 চরফ্যাশন উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪১ হাজার ২০০ জন, কিন্তু বরাদ্দের আওতায় রয়েছেন মাত্র ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন
- 📌 জেলেদের দাবি: প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে নতুন তালিকা করা এবং খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
চরফ্যাশনের মাদ্রাজ ইউনিয়নের সামরাজ এলাকার জেলেরা জানান, বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরলেও সরকারি সহায়তার তালিকায় তারা অনেক সময় জায়গা পান না। জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলেদের তালিকায় নাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে খাদ্যসংকটে পড়ছেন।
মেঘনা-২ বোটের জেলে জহির উদ্দিন বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমি কোনো চাল, টাকা বা সরকারি সহায়তা পাইনি। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছি। মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” অন্য একজন জেলে হোসেন বেপারি দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরে নদীতে মাছ ধরলেও নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা পাননি। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত জেলেদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়েছেন।"
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার ২০০ জন। তাদের মধ্যে বরাদ্দের আওতায় রয়েছেন মাত্র ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন। নিবন্ধিত জেলেদের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট প্রায় ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দের বাইরে রয়েছেন কয়েক হাজার নিবন্ধিত জেলে। জেলেদের অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে চাল পাওয়া যায় না। আবার প্রকৃত জেলে বাদ পড়ার অভিযোগও রয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেছেন, “চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কম দেওয়া বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। ট্যাগ অফিসারদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ চাল আত্মসাৎ বা বিতরণে অনিয়ম করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত জেলেরা যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে।"
"প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে নতুন তালিকা করা এবং খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু কাগজে-কলমে তালিকা না করে মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চরফ্যাশন উপজেলা, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলে জহির উদ্দিন, জেলে হোসেন বেপারি, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা (৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর), ৪১ হাজার ২০০ জন নিবন্ধিত জেলে, ৩৫ হাজার ৭৫৬ জন বরাদ্দের আওতায়, ২৫ কেজি চাল প্রতি জেলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!