📌 গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রতিবন্ধী মানুষেরা ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় ভেড়া পালন ও ব্যবসা করে নিজস্ব আয় করছেন। তাদের জীবনযাপন ও সামাজিক মর্যাদা উন্নত হচ্ছে। সেলফ-হেলপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা সঞ্চয় ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা লাভ করছেন
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর বিস্তীর্ণ জলাশয়ে বসবাসরত প্রতিবন্ধী মানুষেরা নিজের জীবনযাপনকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তারা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করে পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনে। ফ্রেন্ডশিপ সংস্থার সহায়তায় তারা ভেড়া পালন ও ব্যবসা পরিচালনা করে নিজস্ব আয় করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধার ২৫ বছর বয়সী রোহিজুল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হলেও ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় ভেড়া পালন করে পরিবারের আর্থিক সহায়তা করছেন। বর্তমানে তাদের খামারে ৯টি ভেড়া রয়েছে, যার মধ্যে ৪টি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন তারা।
- 📌 ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে গড়ে তোলা সেলফ-হেলপ গ্রুপে প্রতিবন্ধী ও সাধারণ মানুষ মিলে প্রতিবন্ধিতা, বাল্যবিবাহ ও সঞ্চয় বিষয়ে আলোচনা করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন। প্রতি মাসে সদস্যরা ১০০ টাকা করে সঞ্চয় করছেন।
- 📌 ৪০ বছর বয়সী নূর নাহার ও ৩৫ বছর বয়সী শম্পা রাণী সূত্রধর জানান, সেলফ-হেলপ গ্রুপের মাধ্যমে তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সহায়তা পাচ্ছেন।
- 📌 ৪৫ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের পরিবারও সেলফ-হেলপ গ্রুপের মাধ্যমে সঞ্চয় ও সামাজিক বিষয়ে সচেতনতা লাভ করছেন।
- 📌 ফ্রেন্ডশিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধিতার ১২টি শ্রেণি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনযাপন বদলে যাচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ সংস্থার সহায়তায়। ২৫ বছর বয়সী রোহিজুল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হলেও তিনি নিজের জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হন। তার মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে প্রতিবন্ধী ছিলেন। ফ্রেন্ডশিপ আমাদের দুটি ভেড়া দিয়েছে। এখন আমরা ভেড়া পালন করে আয় করছি। বর্তমানে আমাদের খামারে ৯টি ভেড়া রয়েছে।’
ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় রোহিজুলের পরিবার ভেড়া পালন শুরু করে। তারা দুটি স্ত্রী ভেড়া থেকে বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে চারটি ভেড়া বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন। এছাড়াও, তারা ভেড়ার পরিচর্যা, খাবার ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। প্রতিদিন সকালে ভেড়াগুলোকে চরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিকেলে ফিরিয়ে আনা হয়।
ফ্রেন্ডশিপের টেকনিক্যাল সুপারভাইজার শিমু আক্তার জানান, ‘প্রতিবন্ধিতার ১২টি শ্রেণি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেখভালের জন্য কেয়ারগিভারদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেলফ-হেলপ গ্রুপের বৈঠকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।’
সুফিয়া বেগমের পরিবারও সেলফ-হেলপ গ্রুপের মাধ্যমে সঞ্চয় ও সামাজিক বিষয়ে সচেতনতা লাভ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে মিটিং করি এবং সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে টাকা জমা করি।’
স্বস্তি রাণী তার পরিবারের পুরোনো ছোট দোকানটিকে আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় তিনি দোকানের পরিসর বাড়িয়ে ব্যবসা বাড়িয়েছেন। তার মা বলেন, ‘আমরা দোকান উন্নত করেছি এবং পাঁচ-ছয় মাসে আমার ব্যবসা বেড়েছে।’
"আমার বেটা প্রতিবন্ধী ছিল। ফ্রেন্ডশিপ আমাদের খোঁজ নিয়ে দুইটা ভেড়া দেয়। দুইটাই স্ত্রী ভেড়া। এগুলো থেকে দুইবার দুইটা করে মোট চারটা ভেড়া বিক্রি করেছি। এখন মোট ভেড়া আছে নয়টা। দুই বছরেই এমন অবস্থা হয়েছে।"
"আমরা প্রতি মাসে মিটিং করি। সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে টাকা জমা করি। প্রতিবন্ধিতা, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা, যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রোহিজুল (২৫), আলেয়া বেগম, সুফিয়া বেগম (৪৫), নূর নাহার (৪০), শম্পা রাণী (৩৫), স্বস্তি রাণী, শিমু আক্তার (ফ্রেন্ডশিপের টেকনিক্যাল সুপারভাইজার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বছর, ৪৫ বছর, ৪০ বছর, ৩৫ বছর, ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতা, ১০০ টাকা (মাসিক সঞ্চয়), ৯টি ভেড়া, ৪টি বিক্রিত ভেড়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!