📌 চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধভাবে ৭৩৬ দখলদার ও ১৫টি দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর যৌথ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে
চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধ দখল ও দূষণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক। বিআইডব্লিউটিএ ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, নদীতে কমপক্ষে ৭৩৬ দখলদার রয়েছে। এছাড়াও ১৫টি দূষণস্থল চিহ্নিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধভাবে ৭৩৬ দখলদার ও ১৫টি দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়েছে
- 📌 নদীর গড় প্রস্থ ২২০ ফুট, কিন্তু অবৈধ দখলের কারণে কিছু অংশে তা ৩০-৪০ ফুটে নেমে এসেছে
- 📌 জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে শিগগিরই
- 📌 দেশ এনার্জি লিমিটেডকে ২৮৫ শতাংশ জমি দখলের দায়ে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিন ও চালকলের তুষ ফেলার কারণে পানি কালচে ও দুর্গন্ধ হয়ে গেছে
📰 বিস্তারিত
চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধ দখল ও দূষণের পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, নদীতে কমপক্ষে ৭৩৬ দখলদার রয়েছে। এছাড়াও নদী দূষণ করছেন ১৫টি প্রতিষ্ঠান। জরিপে দেখা গেছে, নদীর গড় প্রস্থ ২২০ ফুট, কিন্তু অবৈধ দখলের কারণে কিছু অংশে তা ৩০ থেকে ৪০ ফুটে নেমে এসেছে।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘আমরা অবৈধ দখলদারদের তালিকা ধরে খুব শিগগিরই চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর দুই পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালাব।’ দখলদারদের তালিকায় চাঁদপুর নতুন বাজার এলাকার ইলামা শাহরিনের বরফকল, নিউ পূবালী অটো রাইস মিল ও বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরের মুখার্জিঘাট থেকে স্ট্যান্ড পর্যন্ত এলাকায় শতাধিক বহুতল ভবন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিদ্যালয় ও পুস্তক গুদামসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামও আছে।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান দেশ এনার্জি লিমিটেডকে ডাকাতিয়া নদীর অন্যতম বড় দখলদার ও দূষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারি সিএস নকশা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি একাই ২৮৫ শতাংশ জমি দখলে রেখেছে। দূষণকারীদের মধ্যে রয়েছে বড় স্টেশন ভিআইপি ঘাট, চৌধুরী ঘাট, পৌর কসাইখানা, সদর হাসপাতালের সামনে, পুরান বাজারের ভূঁইয়া ঘাট, চাউলপট্টি ও ইচলী ফেরিঘাট এলাকা।
বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে শহরের বড় স্টেশন মোলহেড থেকে গাছতলা ব্রিজ পর্যন্ত ৬২টি সীমানাখুঁটি স্থাপন করেছি। আরো ২৮টি সীমানাখুঁটি স্থাপনের কাজ চলমান আছে।’
"যারাই ডাকাতিয়া নদী ও তীর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে, আমরা প্রশাসনকে বলেছি সবাইকে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয়।"
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলেছি সবাইকে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুর, ডাকাতিয়া নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ ফরিদ আহমেদ, আহমেদ জিয়াউর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, এনায়েত কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩৬ দখলদার, ১৫টি দূষণস্থল, ২২০ ফুট (নদীর গড় প্রস্থ), ৩০-৪০ ফুট (অবৈধ দখলের কারণে নদীর প্রস্থ), ২৮৫ শতাংশ জমি (দেশ এনার্জি লিমিটেড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!