📌 কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থায় আবেদন করে জরুরি ব্যবস্থা চেয়েছেন। সরকারি দলের জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে। স্থানীয়রা দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের পরেও এই অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। এতে নদীতীরের কৃষিজমি, বসতভিটা ও জনসম্পদের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থায় জরুরি ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে।
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থায় আবেদন করেন।
- 📌 বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
- 📌 অবৈধ বালু উত্তোলন কৃষিজমি, বসতভিটা ও জনসম্পদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধা দিচ্ছে।
- 📌 হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন জানান, গত বৃহস্পতিবার বাহার উদ্দিনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সাহেবের চর হাজীবাড়ি এলাকার বিপরীত পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড় থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। স্থানীয়রা দাবি, বালু উত্তোলনের সময় নদীর পাড় কেটে নেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ এবং তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাটসহ সাধারণ মানুষের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর তলদেশ ও তীর আরও গভীর ও দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা নদীভাঙন ত্বরান্বিত করতে পারে। স্থানীয় কৃষকেরা ফসলি জমি ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আবেদনে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত ও পরিদর্শন, আইনানুগ অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন, বিক্রি ও পরিবহন বন্ধ এবং ব্যবহৃত ড্রেজার, নৌযান ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নদীর পাড় কেটে কৃষিজমি, ফসলি জমি, বসতভিটা ও জনসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিরূপণ করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সাহেবের চর এলাকার সচেতন মহলের একজন ব্যক্তি বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় প্রশাসন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তাঁদের অভিযোগ, অনেক কৃষকের উর্বর ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে নামমাত্র মূল্য দেওয়া হচ্ছে।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, গত বৃহস্পতিবার বাহার উদ্দিন নামে একজনকে আটক করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাটি দুর্গম এবং ময়মনসিংহের পাগলা থানার অধীনে হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পেয়ে অনেকে আগেই পালিয়ে যায়। অতি শিগগির টেন্ডারের আওতায় এনে ইজারার ডাক দেওয়া হবে।
"বালু উত্তোলনের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় প্রশাসন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হোসেনপুর উপজেলা, কিশোরগঞ্জ; পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, সাহেবের চর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জহিরুল ইসলাম মবিন, রেকসোনা খাতুন, বাহার উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ সেপ্টেম্বর, দেড় লাখ টাকা, ৩ নম্বর সড়ক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!