📌 কুড়িগ্রামের চর বজরা দিয়ারখাতায় বসবাসকারী ৭৩ বছর বয়সী অপিয়ল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১২ বার বাড়ি হারিয়েছেন। তার বাবার ৬০ বিঘা জমি নদীতে ডুবে গেলে পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এখনও চরে বাস করলেও ছেলের জন্য শহরে বাড়ি করেছেন
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১২ বার বাড়ি হারানোর পরেও কুড়িগ্রামের চর বজরা দিয়ারখাতায় বসবাসকারী ৭৩ বছর বয়সী অপিয়ল চরে থেকে যাননি। তার বাবার ৬০ বিঘা জমি নদীতে ডুবে যাওয়ার পর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এখনও চরে বাস করলেও ছেলের জন্য চিলমারী উপজেলা শহরে একটি বাড়ি করেছেন। প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্রের দিকে তাকিয়ে তিনি দিনের কাজ শুরু করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৭৩ বছর বয়সী অপিয়ল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১২ বার বাড়ি হারিয়েছেন** এবং এখনও চরে বাস করছেন।
- 📌 **বাবার ৬০ বিঘা জমি নদীতে ডুবে যাওয়ার পর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে** এবং দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন।
- 📌 **১৯৯৫ সালে দুধ বিক্রি থেকে জমি কেনার টাকা জমিয়ে নেন ২ বিঘা জমি**।
- 📌 **২০২৫ সালের ভাঙনে কেনা জমির অংশও ভেঙে গেছে** এবং বর্তমানে ৪০ বিঘা জমি আবার জেগে উঠলেও তা প্রভাবশালীদের দখলে।
- 📌 **ছেলের জন্য শহরে বাড়ি করেছেন** এবং মৌসুমে গ্রামে থাকেন, অন্য সময় শহরে।
- 📌 **ভুট্টা চাষে বিঘাপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়** এবং লাভ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা।
- 📌 **ছেলে মাসুদ রানা সরকারি চাকরি না পেয়ে গ্রামে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেছেন।
📰 বিস্তারিত
ব্রহ্মপুত্রের দিকে তাকিয়ে দিনের কাজ শুরু করেন অপিয়ল। তিনি বলেন, ‘চরের মানুষ সকালে উঠলে আগত নদীর পারত যায়। চারদিক ছায়া দেখে রাতে কার বাড়ি ভাঙিল আর কার জমির ফসল ডুবি গেল। এই চর ভাঙলে কোন চরে বাড়ি নেমো, এই ভাবতে ভাবতে জমির কাজকাম শুরু করি।’
অপিয়লের বাবা ছনদ্দি মুন্সি পাকিস্তান আমলে ৬০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর ভাঙনে সেই জমির সবটাই চলে যায় ব্রহ্মপুত্রের পেটে। তখন অপিয়লের ঘরে নতুন বউ বানেছা বেগম। পরিবার রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন অপিয়ল। সেই অভাবের মধ্যেই একটি গাভি কেনেন। বাছুর হওয়ার পর শুরু হয় দুধ বিক্রি। বানেছা বেগম গাভির যত্ন আর সংসারের দেখাশোনা করতেন। দুধ আর মজুরির টাকা অল্প অল্প করে জমিয়ে ১৯৯৫ সালে ২ বিঘা জমি কেনেন।
বানেছা বেগমের মনে এখনো স্পষ্ট সেই অভাবের দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, ‘বিয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই সব জমিজমা নদীত ভাঙি যায়। সংসারে খুব অভাব-অনটন শুরু হয়। ওই সময় বাপের বাড়ি থাকি কিছু সাহায্য-সহযোগিতা পাইছি। মানুষটা দিনমজুরির কাম করত। ১০-১৫ বছর পর মোক একটা গাই কিনা দেয়। ওই গাইয়ের দুধ বেচি, আস্তে আস্তে টাকা জমাইছি। সেই গাই থাকি ধীরে ধীরে জমিজমা করছি।’
অপিয়লের বাবার জমির প্রায় ৪০ বিঘা আবার জেগে উঠলেও, সেই জমিতে পা রাখতে পারেননি তিনি। জমির একাংশ এখন প্রভাবশালীদের দখলে। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনে বাবার জমি, এল্যা সেই জমি অন্য মানুষ চাষ করে। আমার লাঠির জোর নাই, তাই জমিত যাবার পাই না। কষ্টে বুক ফাটি যায়।’
অপিয়ল বর্তমানে নিজের কেনা জমি আর বর্গা নেওয়া জমি মিলিয়ে কয়েক বিঘায় চাষ করেন। বজরা দিয়ারখাতায় দুই বিঘায় আমন, পাশের বান্ডালের চরে তিন বিঘায় ভুট্টা চাষ করেন। তবে খরচ কম নয়। বিঘাপ্রতি ভুট্টায় খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফলন আর দাম ভালো হলে লাভ থাকে ২৫-৩০ হাজার। ফসল ওঠার আগে নগদ টাকা না থাকায় সার আর তেল কিনতে হয় মহাজনের কাছ থেকে বাকিতে, বাড়তি দামে।
ছেলে মাসুদ রানা স্নাতকোত্তর পাস করার পর সরকারি চাকরির চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে গ্রামে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির আশা তো সবাই করে। কিন্তু কপালে না থাকলে, মামা-খালু ও টাকা দিতে না পারলে চাকরি পাওয়া মুশকিল। চেষ্টার কমতি রাখি নাই। শেষে গ্রামে ফিরে এসে কৃষিকাজ শুরু করেছি।’
"এই চর ভাঙলে কোন চরে বাড়ি নেমো, এই ভাবতে ভাবতে জমির কাজকাম শুরু করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চর বজরা দিয়ারখাতা, চিলমারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অপিয়ল (৭৩), বানেছা বেগম, মাসুদ রানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ বছর বয়স, ১২ বার ভাঙন, ৬০ বিঘা জমি, ২ বিঘা কেনা জমি, ৩৫ হাজার টাকা খরচ, ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!