📌 কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে এক সপ্তাহে ১৮টি বাড়ি ও ৫০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীশাসনে সরকারের অকার্যকর পদক্ষেপের কারণে মানুষের জীবিকা ও বাসস্থান ধ্বংসের মুখে পড়েছে
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষ। এক সপ্তাহের মধ্যে ১৮টি বাড়ি ও ৫০ একর জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, শতবর্ষের পুরনো বসতভিটা ও ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে, কিন্তু সরকারের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮টি বাড়ি ও ৫০ একর জমি হারিয়েছে** রৌমারী উপজেলার নদীতীরবর্তী মানুষ এক সপ্তাহে।
- 📌 **চরশৌলমারী ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে** (সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, সোনাপুর, খেদাইমারী ও পশ্চিম পাখিউড়া) ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
- 📌 **আমন ধানক্ষেত ও বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িঘর** নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
- 📌 **নদী ভাঙন থেকে নিঃস্ব হয়ে** অনেক পরিবার অস্থায়ী কাঠের ঘরে বসবাস করছে বা জন্মভূমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
- 📌 **৭০ বছর বয়সী ইয়াকুব আলী** বলেছেন, "ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না। নদীশাসনে স্থায়ী সমাধান না হলে আর কত বাড়িঘর হারাবে?"
- 📌 **স্থানীয় শিক্ষক ইউনুস আলী** দাবি করেছেন, নদীকে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া জানান, গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১৮টি বাড়ি ও ৫০ একর জমি নদীগর্ভে হারিয়েছে। এতে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অস্থায়ী কাঠের ঘরে বসবাস করছে বা জন্মভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, রৌমারী উপজেলার ৩ ও ৬ নম্বর ইউনিয়নের এলাকা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের শিকার। বছরের পর বছর নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতভিটা ও বাগানবাড়ি বিলীন হলেও এ অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
৭০ বছর বয়সী সুখেরবাতি গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশ পরিচালনায় সরকার গঠনের সময় মানুষের সমস্যার সমাধান করবে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না। নদী ভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা চলে যাচ্ছে। আমাদের দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই।" তিনি দাবি করেছেন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও জরিপের মাধ্যমে নদীর প্রশস্ততা ও গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, "দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নদীশাসনকে ধারাবাহিক কর্মসূচি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। নদীর মাঝ থেকে বালু উত্তোলন ও পলি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও পরিবেশগত মূল্যায়ন জরুরি। উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বালু ও পলি ব্যবস্থাপনা করা গেলে নদীর নাব্যতা রক্ষা, ভূমি উন্নয়ন ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হতে পারে।"
"দেশ পরিচালনায় সরকার গঠনের সময় মানুষের সমস্যার সমাধান করবে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয় না। নদী ভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা চলে যাচ্ছে। আমাদের দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রৌমারী উপজেলা, কুড়িগ্রাম (চরশৌলমারী ইউনিয়ন)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াকুব আলী (৭০), তোতা মিয়া, ইউনুস আলী (শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮টি বাড়ি, ৫০ একর জমি, ৩ ও ৬ নম্বর ইউনিয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!