📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের একটি ৯ কিলোমিটার সড়ক ৩ বছর ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ মৌলুদ মাইকিং করে সড়কের দুর্ভোগ তুলে ধরলেও বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত। ঠিকাদার দাবি, বর্ষা ও বন বিভাগের দেরির কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের একটি বেহাল সড়ক নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ মৌলুদ মাইকিং করলেও সড়কের অবস্থা বদলে যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সড়কের সংস্কারের দাবি তুলেছেন, কিন্তু কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ৯ কিলোমিটার সড়ক ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ পেলেও ৩ বছর পরও কাজ শেষ হয়নি।
- 📌 সড়কের বর্তমান অবস্থা খুব খারাপ — বৃষ্টিতে পুরোটাই কাদায় ভরা। নাসিরনগর সদর থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত ১৮.১ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 সৈয়দ মৌলুদ ৯ আগস্ট মাইকিং করে সড়কের দুর্ভোগ তুলে ধরলেও ঠিকাদার খায়রুল হাসান বর্ষা ও বন বিভাগের দেরিকে দায়ী করে কাজ বিলম্বিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
- 📌 ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ ১৮ কোটি টাকার চুক্তিতে কাজ করছে, কিন্তু বিলম্বের কারণে তৃতীয় দফায় ২০২৭ সালের ৪ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
- 📌 এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদার প্রতি চাপ প্রয়োগ করে বিল নিয়ে চলে যায় এবং কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ।
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন গ্রাম পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কার্যাদেশ পেলেও বর্তমান অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কের প্রস্থ নির্ধারিত ২৪ ফুটের মধ্যে ১৮ ফুট পাকা এবং ৬ ফুট মাটির রাস্তা থাকবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সড়কটি পুরোপুরি কার্পেটিং ছাড়া বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
সৈয়দ মৌলুদ ৯ আগস্ট মাইকিং করে সড়কের দুর্ভোগ তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘গোকর্ণ ইউনিয়নের মানুষ এই নুরপুর থেকে হরিপুর পর্যন্ত যেতে পারে না। রাস্তাটার খুব বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে কাদা হয়ে যায়। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়।’ সড়কের বর্তমান অবস্থায় উপজেলা সদর, গোকর্ণ, পূর্বভাগ ও হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার লোকজন চলাচলের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন।
সড়কের সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান জাতীয় সংসদেও বক্তব্য দিয়েছেন। তবে সড়কের অবস্থা বদলে যায়নি। সড়কের নাসিরনগর কলেজ মোড় থেকে ফুলপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। চৈয়ারকুড়ি বাজার থেকে পরবর্তী ৬ কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খায়রুল হাসান বর্ষা মৌসুমকে দায়ী করে কাজ বিলম্বিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিন মাস বৃষ্টির কারণে সড়কে কার্পেটিং বন্ধ থাকে। এ মাসের শেষের দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করব।’ তবে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মমিন ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
"গোকর্ণ ইউনিয়নের মানুষ এই নুরপুর থেকে হরিপুর পর্যন্ত যেতে পারে না। রাস্তাটার খুব বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে কাদা হয়ে যায়। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগর উপজেলা (কলেজ মোড় থেকে ভুবন গ্রাম পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মৌলুদ, এম এ হান্নান, খায়রুল হাসান, আবদুল মমিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কিলোমিটার (সড়কের দৈর্ঘ্য), ১৮.১ কিলোমিটার (মোট সড়ক), ২০২৩ (কার্যাদেশের বছর), ১৮ কোটি টাকা (কাজের মূল্য), ৬৫ শতাংশ (কাজের অগ্রগতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!