📌 ভোলা জেলায় ছয় মাসে ৮টি সার চালানের মোট ৩ হাজার ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তদন্ত চলছে, দুটি চালানের সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শামীম রহমান বলেছেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সার জব্দ করা হয়
ভোলা জেলায় পাচার প্রতিরোধে গত ছয় মাসে পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে ৮টি সার চালানের মোট ৩ হাজার ৫৪ বস্তা সার জব্দ করেছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তদন্ত চলছে, ২টি চালানের সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এই সার জব্দ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ৬ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৮টি সার চালান জব্দ করা হয়, মোট ৩ হাজার ৫৪ বস্তা সার (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি)।
- 📌 ১২ জনকে আটক করা হয়, ৮টি মামলা দায়ের করা হয়, এর মধ্যে ৪টি মামলায় তদন্ত চলছে।
- 📌 ভোলা সদর, চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও লালমোহন উপজেলায় সার জব্দ করা হয়।
- 📌 ১ হাজার ৫৯৫ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে, ১৯১ বস্তা সার ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছে।
- 📌 জেলা প্রশাসক শামীম রহমান বলেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সার জব্দ করা হয়।
- 📌 মনপুরা উপজেলায় ২০৭ বস্তা সার জব্দের সময় একটি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 সার পাচারের মূল কারণ হিসেবে পরিবেশকদের অতিরিক্ত দাম, ক্যাশ ম্যামো না দেওয়া ও বাজার তদারকির দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ভোলা জেলার পাঁচটি উপজেলা — ভোলা সদর, চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও লালমোহন — এ অভিযান চালিয়ে গত ছয় মাসে পুলিশ ও কোস্টগার্ড ৮টি সার চালানের মোট ৩ হাজার ৫৪ বস্তা সার জব্দ করেছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তদন্ত চলছে, ২টি চালানের সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শামীম রহমান বলেছেন, সার জব্দ করার ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় অনুমোদিত পরিবেশকের কাছ থেকে সার সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা রসিদ আছে কি না।
মনপুরা উপজেলায় ৪ জুলাই রাতে অভিযান চালিয়ে একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ২০৭ বস্তা সার (ডিএপি ৯৪ বস্তা, ইউরিয়া ৫৫ বস্তা এবং এমওপি ৫৮ বস্তা) জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এক তরুণকে আটক করা হয়। এছাড়াও ১৩ আগস্ট রাতে মনপুরা-হাতিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে নদীপথে সার পাচারের সময় ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ সময় আরও চারজনকে আটক করা হয়। মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার নেওয়া হচ্ছিল বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি মামলায় ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাটে গত ৬ মার্চ রাতে অভিযান চালিয়ে চারটি ট্রাকে থাকা ১ হাজার ৪২০ বস্তা সরকারি টিএসপি সার জব্দ করা হয়। আটক করা হয় একজনকে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে জানা যায়, চালানটি বৈধ ছিল। পরে ওই সারের বৈধ কাগজ দেখিয়ে বরগুনার দুই পরিবেশক সারের বস্তাগুলো নিয়ে যান।
তজুমদ্দিন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বাজারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ১৬০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। তজুমদ্দিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. বনি আমিন জানান, কোস্টগার্ড এটিকে পাচারের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তদন্তে দেখা যায়, কৃষক ও খুচরা বিক্রেতারা বৈধভাবে পরিবেশকের কাছ থেকে সার কিনে চরাঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
"সার জব্দ করার ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় অনুমোদিত পরিবেশকের কাছ থেকে সার সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা রসিদ আছে কি না। পরে প্রকৃত মালিক বা পরিবেশক বৈধ কাগজপত্র ও ক্রয়ের প্রমাণ দেখাতে পারলে সার ছেড়ে দেওয়া হয়। নতুবা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।"
জেলার সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক শামীম রহমান বলেন, সার জব্দের ক্ষেত্রে বৈধতা পরীক্ষা করা হয়। কৃষক সংগঠন, কৃষি বিভাগ ও পরিবেশকরা সার সমস্যার মূল কারণ হিসেবে পরিবেশকদের অতিরিক্ত দাম, ক্যাশ ম্যামো না দেওয়া ও বাজার তদারকির দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন। বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবউদ্দিন ফরাজী বলেছেন, সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে অনেক ডিলার কৃষকদের ক্যাশ ম্যামো দেন না। এতে সার নিয়ে যাওয়ার সময় কৃষকেরা পাচারকারী সন্দেহে ধরা পড়েন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা জেলা (ভোলা সদর, চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, লালমোহন উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, মো. মাজহারুল ইসলাম (ওসি), শাহাবউদ্দিন ফরাজী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ৫৪ বস্তা সার, ১২ জন আটক, ৮টি মামলা, ২০৭ বস্তা সার (মনপুরা), ৭৬০ বস্তা সার (মনপুরা-হাতিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!