📌 বগুড়া সরকারি বাণিজ্যিক কলেজের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে পা হারান। অন্যদিকে, তার বন্ধুদের কারাগারে যাওয়া ঘটনায় বাবা শাহাদৎ জামান মজনুর ক্ষুব্ধ
বগুড়া সরকারি বাণিজ্যিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর চিকিৎসায় অবহেলার কারণে বাঁ পা হারান। বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ার সময় বউবাজার এলাকায় দুর্ঘটনায় পায়ের ফ্র্যাকচার হওয়ার পর তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসায় অবহেলার কারণে পায়ের নার্ভ ছিঁড়ে পচন ধরার পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বগুড়া কলেজছাত্র ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে পা হারান
- 📌 ইরামের বাবা শাহাদৎ জামান মজনুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাঁকে দেখেননি
- 📌 ট্রলিম্যানের বকশিশ দাবির প্রতিবাদে বন্ধুদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের সংঘর্ষে চার শিক্ষার্থী কারাগারে যাওয়ার মামলায় জামিন না পেয়ে আটক রয়েছেন
- 📌 শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শুক্রবার ইরামকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল
- 📌 চার শিক্ষার্থীর জামিন শুনানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসিন্দা ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮) বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে পড়েন বুধবার সন্ধ্যায়। শহরের বউবাজার এলাকায় দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পা ভেঙে যায়। বন্ধুরা তাকে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তির পর এক্স-রে করে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর হাঁটুর জোড় সরে গেছে এবং পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। পরে পা প্লাস্টার করে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
তবে ইরামের বাবা শাহাদৎ জামান মজনুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক তাঁকে দেখেননি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তখন ইরাম জানান, তিনি পায়ের আঙুল নাড়াতে পারছেন না। এরপর তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। শাহাদৎ জামান মজনু বলেন, ‘শুক্রবার রাতেই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলাম। শনিবার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, পায়ের একটি নার্ভ ছিঁড়ে গেছে এবং পচন ধরেছে। পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গতকাল রোববার রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইরামের বাঁ পা কেটে ফেলা হয়।’
ইরামের পা হারানোর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাবা। এর মধ্যেই তাঁর ছেলের চার বন্ধুকে আনসার সদস্যদের করা মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে। ইরামকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ট্রলিতে করে নেওয়ার সময় ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করা নিয়ে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলিম্যানের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে এ নিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গেও তাঁদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধরে চার আনসার সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় চার কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শাহাদৎ জামান মজনু বলেন, ‘ট্রলিম্যানের বকশিশ দাবির প্রতিবাদ করায় আমার ছেলের বন্ধুরা এখন কারাগারে। আদালত তাঁদের জামিন দিচ্ছে না। আর চিকিৎসকের অবহেলায় আমার ছেলে পঙ্গু হয়ে গেল। একসঙ্গে এত বড় দুই আঘাত কীভাবে সহ্য করব?’
শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-ইলাহী বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ইরামের পা কেন কেটে ফেলতে হয়েছে, সে বিষয়ে অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।’
"শুক্রবার রাতেই ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। শনিবার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা জানান, পায়ের একটি নার্ভ ছিঁড়ে গেছে এবং পচন ধরেছে। পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বগুড়া শহর (রহমান নগর), শজিমেক হাসপাতাল (বগুড়া), ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইশতিয়াক জামান ইরাম (১৮), শাহাদৎ জামান মজনুর, ডা. মঞ্জুর-ই-ইলাহী, চার শিক্ষার্থী (বন্ধু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর (ইরামের বয়স), ২০০ টাকা (বকশিশ দাবি), ২৪ সেপ্টেম্বর (জামিন শুনানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!