📌 ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলের কুলিক নদীর পাড় থেকে বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটছেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, রাতের আঁধারে ট্রলি দিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে, যা নদীভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। প্রশাসন জানতে না পেরে ঘটনাটি অবহেলিত হচ্ছে
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় কুলিক নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটছেন বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী। স্থানীয়রা দাবি করছেন, রাতের আঁধারে খননযন্ত্রের মাধ্যমে নদীভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন তিনি। ঘটনাটি লেহেম্বা ইউনিয়নের বিরাশি বাজার এলাকায় ঘটছে, যেখানে মঞ্জুর আলী বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী অবৈধভাবে কুলিক নদীর পাড় থেকে মাটি ও বালু কাটছেন, যা নদীভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে
- 📌 স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে ট্রলি দিয়ে মাটি ও বালু বিক্রি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না
- 📌 মঞ্জুর আলী দাবি করেন, মাটি কাটছেন নিজের ৮ বিঘা জমি সমান করার জন্য, কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, নদীর পাড়ের মাটি ও বালু লুট করা হচ্ছে
- 📌 নদীর পাড় থেকে প্রায় ১০ ফুট জায়গার মাটি কাটা হয়েছে, যা বর্ষার সময় ফসলি জমিকে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে
- 📌 উপজেলা সহকারী কমিশনার মজিবুর রহমান জানান, নদীর পাড় রাষ্ট্রীয় সম্পদ, মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয়, কিন্তু বিষয়টি অবহেলিত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলের লেহেম্বা ইউনিয়নের বিরাশি বাজার এলাকায় কুলিক নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটছেন বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী। স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে ট্রলি দিয়ে মাটি ও বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অবৈধ কার্যকলাপ সপ্তাহখানেক ধরে চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পাড় থেকে প্রায় ১০ ফুট জায়গার মাটি কাটা হয়েছে। নদীর পাশেই গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন কয়েকজন পুরুষ ও নারী। তারা বলেন, দিনে মাটি কাটা বন্ধ থাকে, কিন্তু রাতে চলে দেদার।
মঞ্জুর আলী দাবি করেন, তিনি নিজের ৮ বিঘা জমি উঁচু ছিল, তাই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সমান করছেন। তিনি আরও বলেন, নদীর পাশের বাঁধ তিনি নিজেই দিয়েছিলেন, এখন প্রয়োজন নেই, তাই কেটে ফেলছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, উল্টো কথা। তারা জানান, নদী পাড়ের মাটি ও বালু লুট করে সারা রাত ট্রলি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, কবরস্থানের নিচেই বিশাল এলাকাজুড়ে ফসলের মাঠ রয়েছে। নদীর পাড়ে খননযন্ত্রের মাধ্যমে মাটি কাটা হচ্ছে, যা নদীভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তারা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রশাসনের লোক ও সাংবাদিক এসেছিলেন। তাঁরা অনেক ফটো, ভিডিও করে নিয়ে গেছেন। আমরা ভেবেছিলাম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কিছুই হলো না। পরে শুনলাম সবাই ম্যানেজ।’
মঞ্জুর আলীর কথায়, ‘মাটি কাটছি জমি সমানের জন্য। এতে কারও ক্ষতি হওয়ার কথা না। তা ছাড়া মাটি বিক্রি করছি না।’ তবে রাতে বালু-মাটি কাটার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘যাদের চুক্তি দিয়েছি তারা মাঝে মাঝে নিয়ে যায়।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদীর পাড় বা নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এখান থেকে মাটি বা বালু অপসারণ আইনত দণ্ডনীয়। বিষয়টি জানতাম না। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"মাটি কাটছি জমি সমানের জন্য। এতে কারও ক্ষতি হওয়ার কথা না। তা ছাড়া মাটি বিক্রি করছি না"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মঞ্জুর আলী (বিএনপি নেতা, ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ বিঘা জমি, ১০ ফুট মাটি কাটা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!