📌 ঢাকার সাভারের জিরানী থেকে লালমনিরহাটের বাড়ি যাচ্ছিলেন আবেদা বেগম। পথে বাসে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে পরিবহন কোম্পানির নামে নামকরণ করা হয় এবং শিশুকে আজীবন ফ্রি ভ্রমণের সুবিধা দেওয়া হয়
পথে বাসে সন্তান প্রসবের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার রাত। ঢাকার সাভারের জিরানী থেকে লালমনিরহাটের বাড়ি যাচ্ছিলেন আবেদা বেগম। পথে বাসের মধ্যে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে পরিবহন কোম্পানির নামে নামকরণ করা হয় এবং শিশুকে আজীবন বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবেদা বেগম ঢাকার সাভারের জিরানী থেকে লালমনিরহাটের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে বাসের মধ্যে সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে ‘আনাস হাসান’ নামকরণ করা হয়।
- 📌 পরিবহন কোম্পানি ‘আনাস এন্টারপ্রাইজ’ ঘোষণা দেয়, শিশুটি আজীবন বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণ করতে পারবে।
- 📌 বাসে জন্ম নেওয়া শিশুর মা ও বাবা আবেদা বেগম ও আবেদ আলী দুজনই সুস্থ আছে।
- 📌 বাসের সুপারভাইজার মজনু হোসেন জানান, বাসে থাকা এক ধাত্রী ও নারী যাত্রীদের সহায়তায় সন্তান প্রসব হয়।
- 📌 পরিবহন কোম্পানির মালিক মো. আতিকুর রহমান শিশু ও মায়ের জন্য উপহারসামগ্রী পাঠান।
📰 বিস্তারিত
পোশাক কারখানায় কাজরত আবেদা বেগম সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের ২০ দিন আগে বাসে চড়েছিলেন। ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের বাড়ি যাওয়ার পথে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় বাসে সন্তান প্রসবের বেদনা শুরু হয়। বিষয়টি জানার পর বাস ধীরগতিতে চালিয়ে একটি পেট্রলপাম্পের সামনে থামানো হয়। বাসে থাকা এক ধাত্রী ও নারী যাত্রীদের সহায়তায় আবেদা বেগম একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।
বাসের সুপারভাইজার মজনু হোসেন প্রথম আলোকে জানান, বাস থেকে পুরুষ যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে নারী যাত্রীদের সহায়তায় সন্তান প্রসব হয়। বাসের মালিককে বিষয়টি জানানোর পর তিনি শিশুটির জন্য উপহার পাঠানোর পাশাপাশি আজীবন বিনামূল্যে বাসে ভ্রমণের ব্যবস্থা করার কথা জানান।
আবেদা বেগমের বাবা আবেদ আলী জানান, চিকিৎসক জানিয়েছিলেন সন্তান প্রসবের আরো ২০ দিন বাকি। কিন্তু পথে বাসের মধ্যে সন্তানের জন্ম হয়। তিনি পরিবহন কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাসে জন্ম হওয়ায় পরিবহনের নামে নাতির নাম ‘আনাস হাসান’ রাখা হয়।
"সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছা। কথা ছিল বাবার বাড়িতে সন্তানের জন্ম হবে। তা না হয়ে পথেই জন্ম হলো। আল্লাহপাক যা করেন, তার মধ্যে মঙ্গল আছে।"
গতকাল বুধবার দুপুরে পরিবহন কোম্পানির পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য উপহারসামগ্রী নিয়ে রমনীগঞ্জ গ্রামে গেলে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। স্থানীয় লোকজন বাড়িতে ভিড় করে মা-নবজাতককে দেখেন। পরিবহন কোম্পানির সুপারভাইজার মজনু হোসেন আবেদার পরিবারের কাছে শিশুটির জন্য একটি দোলনা, বাচ্চাদের বিছানা, মশারি, সাবান, ক্রিমসহ বিভিন্ন প্রসাধনীসামগ্রী তুলে দেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার সাভারের জিরানী, রংপুরের মিঠাপুকুর, লালমনিরহাটের বড়খাতা ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবেদা বেগম, আবেদ আলী, মজনু হোসেন, মো. আতিকুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!