📌 যশোরের ভবদহ অঞ্চলে চার মাস ধরে জলাবদ্ধতা চলছে। ক্ষুদিরাম-চিত্রা দম্পতির মতো শত শত পরিবার রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। স্ট্রোকে অসুস্থ চিত্রার চিকিৎসা, ফসলের ক্ষতি ও অর্থসংকটে দিন কাটছে অমানবিক জীবনে। ১০০ গ্রামের বাড়ি-ঘর পানির নিচে, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যাহত
যশোরের ভবদহ অঞ্চলে চার মাস ধরে চলমান জলাবদ্ধতা মানুষের জীবনকে অমানবিক করে তুলেছে। ক্ষুদিরাম-চিত্রা দম্পতির মতো শত শত পরিবার রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে তাদের ঘর, ফসল ও স্বপ্ন সবই পানির নিচে ডুবে গেছে। স্ট্রোকে গুরুতর অসুস্থ চিত্রার চিকিৎসা, অর্থসংকট ও ফসলের ক্ষতির কারণে দম্পতির জীবন কষ্টের মধ্যে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৫ বছর বয়সী ক্ষুদিরামের স্ত্রী চিত্রা স্ট্রোকে আক্রান্ত, চিকিৎসা ব্যয়ে অর্থসংকটে পড়েছেন** — "তিনবারের খাওনা একবেলা খাচ্ছি, আর কীভাবে বাঁচবো?"
- 📌 **১০০ গ্রামের বাড়ি-ঘর পানির নিচে, শিক্ষা ও যাতায়াত সম্পূর্ণ ব্যাহত** — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও জলাবদ্ধ, শিক্ষার্থীরা ডিঙি নৌকায় করে যাতায়াত করছে
- 📌 **চার মাস যাযাবর জীবন: টিনের ছাপড়া ঘরে গরু-পশু সঙ্গে থাকতে হচ্ছে** — "ঘর ছেড়ে রাস্তায় এসে পশু ও আমরা একই জায়গায় থাকছি"
- 📌 **২১টি প্রকল্পে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী সংস্কার, কিন্তু জলাবদ্ধতা অব্যাহত** — ২০২৪ সালে সেনাবাহিনী ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চলছে
- 📌 **বর্ষা শেষ হলেও পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় শরতের শেষেও ১০০ গ্রাম জলাবদ্ধ** — অভয়নগর, মনিরামপুর ও খুলনার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
📰 বিস্তারিত
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের ক্ষুদিরাম-চিত্রা দম্পতির সংসার ছিল সাজানো-গোছানো। কিন্তু বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা তাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করেছে। ঘর থেকে শুরু করে স্বপ্নের বসতভিটা সবই পানির নিচে ডুবে গেছে। দম্পতির টিনের ছাপড়া ঘরে এখন অমানবিক জীবনযাপন চলছে। চিত্রা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ, কিন্তু অর্থসংকটে চিকিৎসার খরচ আসতে পারছে না। ক্ষুদিরাম বলেন, “ঘরের মধ্যে এক হাত জল ছিল, এখন কমে এক বিঘা দাঁড়িয়েছে। চার মাস ধরে রাস্তার ওপর আছি। স্ত্রী দু’বার স্ট্রোক করে খুব অসুস্থ। আয়রোজগার তেমন নেই, ফসলও এই জলে মার গেছে। টাকাপয়সা নেই, চিকিৎসা করাব কী করে?”
ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চলের অংশ নিয়ে গঠিত। এই এলাকায় ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেটের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পলি পড়ে নদী নাব্যতা হারিয়ে গেছে, ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও দেড় মাস আগে, এখনও ১০০ গ্রামের বাড়ি-ঘর জলাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় শরতের শেষেও এলাকায় জলাবদ্ধতা অব্যাহত রয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পানির নিচে ডুবে গেছে। বাসিন্দারা বলেন, “এক দিন বৃষ্টি হলে আবার পানি বেড়ে যায়। ঘরের মধ্যে মাচা করে থাকতে হয়।” ডুমুরতলা গ্রামের নিরাপদ বিশ্বাস বলেন, “গ্রামের দেড়শ বাড়ির সব বাড়িতেই পানি। আমার বাড়ির উঠানেও পানি ছিল, কিন্তু অনেকটা নেমে গেছে।”
"এসব ছবি উঠায়ে কী হবে? কয়েক দিন পর পর আপনারা আসেন আর ছবি তুলে যান; আমাগের তো কোনো কাজ হলো না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোরের ভবদহ, মনিরামপুর, অভয়নগর, ডুমুরিয়া, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্ষুদিরাম (৫৫), চিত্রা বিশ্বাস (স্ট্রোকে অসুস্থ), নিরাপদ বিশ্বাস (ডুমুরতলা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪টি বিল, ১০০ গ্রাম জলাবদ্ধ, ২১টি প্রকল্প, ১৪০ কোটি টাকা, ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!