📌 পুলিশ স্টাফ কলেজের গবেষণা প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশে অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। গবেষণায় দারিদ্র্য, বন্ধুমহলের প্রভাব ও অভিভাবকদের তদারকির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
বাংলাদেশে অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) গবেষণায় এই তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৩২.৯২ শতাংশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়াও ধর্ষণ, চুরি, মাদক ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিএসসি গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে
- 📌 গবেষণায় ১৬০টি থানার মামলা ও ৪০৪ শিশু ও ১৫৬ অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে
- 📌 অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ১৬.৮৩ শতাংশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রয়েছে
- 📌 গবেষণায় দারিদ্র্য, বন্ধুমহলের প্রভাব ও অভিভাবকদের তদারকির অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
- 📌 শিশুদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব
📰 বিস্তারিত
‘সোশিওইকোনমিক ডিটারমিন্যান্টস অব চিলড্রেন ইন কনফ্লিক্ট উইথ দ্য ল ইন বাংলাদেশ: আ ক্রিমিনোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি পিএসসি জার্নালের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন পিএসসি গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রামন চন্দ্র তালুকদার। গবেষণায় আট বিভাগের ১৬০টি থানার মামলা পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর ও যশোরের সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪০৪ শিশু এবং তাদের ১৫৬ অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৩২.৯২ শতাংশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা বা প্ররোচনার মামলায় আসামি ১৬.৮৩ শতাংশ শিশু। এছাড়াও চুরির অভিযোগ রয়েছে ১৫.৮৪ শতাংশের বিরুদ্ধে, মাদক ব্যবহারের অভিযোগ ১০.৯৭ শতাংশের বিরুদ্ধে, অপহরণের অভিযোগ ১০.৪৫ শতাংশের বিরুদ্ধে এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে ৯.৬১ শতাংশের বিরুদ্ধে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, অপরাধ সংঘটনের সময় ৫২.৯৭ শতাংশ শিশু অন্য কারও সঙ্গে ছিল। তাদের মধ্যে ৮৬.৯২ শতাংশের সঙ্গী ছিল বন্ধু।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের ৪৪.৬ শতাংশের পরিবারের আয় ছিল ব্যয়ের তুলনায় কম। এসব পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ১৯ হাজার ২৭৫ টাকা। এছাড়াও ১৭.৮ শতাংশ শিশুর পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এসব পরিবারের অভিযুক্ত সদস্যদের মধ্যে বাবার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৩৩.৩৩ শতাংশ শিশু দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে কাটায়। তাদের বাইরে থাকার গড় সময় প্রায় আট ঘণ্টা।
"সামাজিক, পারিবারিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কাউন্সেলিং, পারিবারিক তত্ত্বাবধান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা এবং পুনর্বাসনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, শিশুদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গাজীপুর, যশোর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, রামন চন্দ্র তালুকদার, ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিজন চৌধুরী, নূর খান লিটন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩.০ শতাংশ (হত্যা মামলা), ১৬০টি থানা, ৪০৪ শিশু, ১৫৬ অভিভাবক, ১৬.৮৩ শতাংশ (ধর্ষণ মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!