📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার করতে বাধ্য ছিলেন। এখন কাঠের সেতু নির্মাণের ফলে তাদের যাতায়াত ও জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তিন গ্রামের মানুষের জীবন ৫০ বছরের অপেক্ষার পর বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার করতে বাধ্য থাকা মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসন কাঠের সেতু নির্মাণ করেছে। এতে তাদের যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ বছরের অপেক্ষার পর হাতিয়া উপজেলার তিন গ্রামে কাঠের সেতু নির্মিত হয়েছে, যা সাঁকোর জায়গায় দাঁড়িয়েছে।
- 📌 ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের বাসিন্দাদের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে।
- 📌 ২০০ ফুট দীর্ঘ পুরাতন সাঁকো থেকে পড়ে আহত হওয়া, অঙ্গহানি ও মৃত্যুসহ নানা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটত।
- 📌 মুমূর্ষু রোগী ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকত, সাঁকো পার করতে গিয়ে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল নিজ উদ্যোগে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন।
- 📌 কাঠের সেতুতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল শুরু হয়েছে, স্থানীয়রা আনন্দিত।
📰 বিস্তারিত
হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে তমরদ্দি ইউনিয়নের দক্ষিণে কোরালিয়া, পশ্চিম জোড়খালী ও মাইজচরা গ্রামের অবস্থান। এ তিন গ্রামে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের বসবাস। দৈনন্দিন প্রয়োজনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি পার হতে গিয়ে বছরের পর বছর নানা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। মুমূর্ষু রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হতো।
কোরালিয়া গ্রামের খালের পাড়ে বেড়িবাঁধের ওপর দোকান করেন নুরউদ্দিন শের আলী (৬০)। তিনি বলেন, তাঁর দোকানের মালামাল তমরদ্দি বাজার থেকে আনতে হয়। ভ্যানচালকেরা মালামাল খালের ওপারে রেখে দেন। এরপর মাথায় করে সাঁকো পার হয়ে দোকানে পৌঁছে দিতে হয়। গত বছর এভাবে মালামাল আনতে গিয়ে চিনির বস্তাসহ সাঁকো ভেঙে খালে পড়ে যান নুর ইসলাম নামের এক ভ্যানচালক। এতে তাঁর এক হাত ও এক পা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি পঙ্গুত্ব নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
গ্রামের শিক্ষার্থীদের এই সাঁকো পার হয়ে তমরদ্দি উচ্চবিদ্যালয়ে যেতে হয়। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এক ছাত্রী সাঁকো থেকে খালে পড়ে ভেসে যেতে থাকলে সহপাঠীদের চিৎকারে দোকান থেকে লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। যোগাযোগের অভাবে বিয়েতেও অনীহা ছিল গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সিরাজ মিয়া (৮৫)। তিনি বলেন, দিনের বেলায় কোনোভাবে যাতায়াত করা গেলেও রাতে সাঁকো পার হওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একবার তাঁর ছেলের স্ত্রীর প্রথম সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দেয়। গ্রামের চিকিৎসকেরা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও রাতে খাল পার হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে নৌকায় খাল পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল একটি কাজে গ্রামে এসে সাঁকোটি দেখে থমকে দাঁড়ান। স্থানীয়দের কাছ থেকে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শুনে তিনি নিজ উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি নির্মিত সেতুটি দেখতে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে নির্মিত সেতুটির নিচে রয়েছে সিমেন্টের খুঁটি। এর ওপর কাঠের পাটাতন বসানো হয়েছে এবং দুই পাশে দেওয়া হয়েছে হাতল। রং দিয়ে সাজানো সেতুটি দূর থেকে বেশ দৃষ্টিনন্দন দেখায়। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।
"জীবনের শেষ প্রান্তে এসে গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি।"
প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সোনাদিয়া থেকে সেতুটি দেখতে এসেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরিয়ান ফরিদ। তিনি বলেন, লম্বা সেতুটি রং দিয়ে সাজানো হয়েছে। দূর থেকে দেখতে ছোট নদীর ওপর নির্মিত বড় কোনো সেতুর মতো মনে হয়। জায়গাটি এখন দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী (কোরালিয়া, পশ্চিম জোড়খালী, মাইজচরা গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরউদ্দিন শের আলী (৬০), সিরাজ মিয়া (৮৫), রাসেল ইকবাল (ইউএনও), নুর ইসলাম (ভ্যানচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (অপেক্ষা), ১০-১৫ হাজার পরিবার, ২০০ ফুট (সাঁকোর দৈর্ঘ্য), ১০ কিলোমিটার (হাতিয়া সদর থেকে দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!