📌 চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পেয়ারীখোলা গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি শান্তি বেগম ও লাল মিয়া পাটোয়ারী ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ মেয়ে হনুফার সন্ধানে আশা করছেন। ১৬ বছর বয়সী হনুফা বাড়ি থেকে হাঁটতে বেরিয়ে আর ফিরেননি। বাবা-মা দুজনেই মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পেয়ারীখোলা গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি শান্তি বেগম (৭০) ও লাল মিয়া পাটোয়ারী (৮০) ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ মেয়ে হনুফার সন্ধানে আশা করছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে বাড়ি থেকে হাঁটতে বেরিয়ে যাওয়া ১৬ বছর বয়সী হনুফা আর ফিরেননি। বাবা-মা দুজনেই মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে বাড়ি থেকে হাঁটতে বেরিয়ে যাওয়া ১৬ বছর বয়সী হনুফা বেগম ১৩ বছর ধরে নিখোঁজ
- 📌 বৃদ্ধ দম্পতি শান্তি বেগম (৭০) ও লাল মিয়া পাটোয়ারী (৮০) মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন
- 📌 স্থানীয় জ্যোতিষী ও কবিরাজের দাবি: হনুফা আর বেঁচে নেই
- 📌 মতলব দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ মেয়ের ঘটনাটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল
- 📌 হনুফার চাচাতো বোন জুবাইদা সুলতানা জানান, মেয়ের সঙ্গে কোনো ছেলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না
📰 বিস্তারিত
গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শান্তি বেগম কান্না করতে করতে বলেছিলেন, ‘প্রায় ১৩ বছর ধরে মেয়ের খোঁজ নাই। কত জায়গায়, কত মানুষের কাছে, কত আত্মীয়স্বজনের কাছে গেছি, কেউই কিছু বলতে পারে না। মেয়েটা হাঁটতে বাড়ি থেকে গেল, আর ফিরে আসেনি। মেয়ের জন্য কানতে কানতে চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে।’
হনুফা বেগমের পরিবারের বাসস্থান চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পেয়ারীখোলা গ্রাম। স্থানীয় মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন তিনি। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।
হনুফার চাচাতো বোন জুবাইদা সুলতানা জানান, ‘২০১৩ সালের নভেম্বরের এক বিকেলে বাড়ির পাশে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন হনুফা। তারপর আর ফেরেননি। মুঠোফোন ছিল না তার সঙ্গে। আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাওয়ার সুযোগ হয়নি। নিখোঁজের ঘটনাটি সে সময় থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছিল। মতলব দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।’
জুবাইদা আরও জানান, ‘হনুফার সঙ্গে কোনো ছেলের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। নিখোঁজের ঘটনাটি সে সময় থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছিল।’
বাবা লাল মিয়া পাটোয়ারী কয়েক বছর আগে স্ট্রোকের শিকার হন। এখন তিনি প্রায় অচল হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। শান্তি বেগম মেয়ের শোকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলেন না।
শান্তি বেগম বলেন, ‘গণক-কবিরাজও ধরছেন। তারা বলেছেন, আমার মেয়ে নাকি নাই, মরে গেছে। এখন আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খেতে, ঘুমাতে পারছি না। আমার সব শেষ।’
হনুফার পরিবারের জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন জানিয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটির সন্ধানের জন্য চেষ্টা করবো।’
"মেয়েডা বড় ভালা আছিল। সে কি বাঁইচা আছে, নাকি মাইরালাইছে, তা–ও জানি না। আমার মেয়েরে আমার কোলে আইনা দেও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পেয়ারীখোলা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শান্তি বেগম (৭০), লাল মিয়া পাটোয়ারী (৮০), হনুফা বেগম (নিখোঁজ), জুবাইদা সুলতানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ বছর (নিখোঁজ), ৭০ বছর (মা), ৮০ বছর (বাবা), ১৬ বছর (হনুফার বয়স নিখোঁজ হওয়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!