📌 মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'রইদ' সমাজের মেকি প্রথা ও আদিম মনস্তত্ত্বকে রূপক হিসেবে তুলে ধরেছে। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে এবং প্রথাবিরোধী চেতনা নিয়ে আলোচিত হচ্ছে
বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'রইদ' দর্শকদের মনকে আকৃষ্ট করেছে আদিম মনস্তত্ত্ব ও প্রকৃতির বিরুদ্ধতা নিয়ে নির্মিত এই কাহিনির মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি সমাজের প্রচলিত মোহময় বিশ্বাস ও মেকি প্রথা ভাঙার চেষ্টা করেছে, যা 'হাওয়া'-এর মতো সাফল্য অর্জনের পর দীর্ঘ সময়ের পর ফিরে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'রইদ' তপ্ত মাটির ওপর বেঁচে থাকার প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত
- 📌 সিনেমাটি 'অ্যাডাম' ও 'ইভ'-এর আদি পাপ ও লিবিডো কামনার রূপক হিসেবে নামহীন নারী চরিত্রকে ব্যবহার করেছে
- 📌 'রইদ'-এ প্রথাবিরোধী চেতনা প্রকাশ পেয়েছে — পাগলবেশে নারী চরিত্রের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত
- 📌 সিনেমায় নায়ক রাখাল সাধু (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) প্রথাগত সমাজের ভয়ভীতি ও দাসত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে
- 📌 'রইদ' আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে এবং সমাজের আদিম মনস্তত্ত্ব ও প্রকৃতিবিরুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম চলচ্চিত্র 'হাওয়া' সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মতো দর্শকহৃদয়ে আছড়ে পড়েছিল। এই সাফল্যের পর নির্মাতা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে 'রইদ' দিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন। এই চলচ্চিত্রটি তপ্ত মাটির ওপর বেঁচে থাকার প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রামকে তুলে ধরেছে, যেখানে 'হাওয়া'-এর মতো সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়া ও মানবীয় সংশয় ছিল না। 'রইদ' সিনেমাটি মানুষের আদিম বাসনা ও প্রকৃতির সার্বভৌমত্বের পৌরাণিক রূপক হয়ে উঠেছে।
সিনেমাটিতে 'অ্যাডাম' ও 'ইভ'-এর আদি পাপ ও লিবিডো কামনার প্রতীক হিসেবে নামহীন নারী চরিত্রটি উপস্থাপিত হয়েছে। এই নারী চরিত্রের মাধ্যমে প্রথার শৃঙ্খল ভাঙার প্রচেষ্টা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাগলবেশে এই নারী যেন অনিয়ন্ত্রিত বন্য প্রকৃতির প্রতীক। অন্যদিকে, নায়ক রাখাল সাধু (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) প্রথাগত সমাজের ভয়ভীতি ও দাসত্বের রূপক। সাধুকে সমাজ দিনের পর দিন বন্দী করে রেখেছে, এবং তিনি সেই ক্রূর ব্যবস্থার নিঃশব্দ শিকার।
সিনেমায় কোনো স্পষ্ট খলনায়ক নেই। প্রকৃতিকে জয় করা যায় না, আবার প্রকৃতিবিরুদ্ধতা দিয়েও মানুষের প্রার্থিত ফল আসে না। এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে 'রইদ' মানুষের নিজস্ব দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক সংগ্রামকে তুলে ধরেছে। পাগলির পেটের সন্তান নিয়ে নায়ক চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে। সাধু সন্তানটিকে হত্যা করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীর প্রতীক হিসেবে গর্ভবতী ছাগলটিকে হত্যা করে এবং তার মাংস খেয়ে ফেলে।
"রইদ সিনেমাটি মানুষের আদিম প্রবৃত্তি, ক্ষুধা ও প্রকৃতির সার্বভৌমত্বের এক পৌরাণিক রূপক হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার আড়ালে এখানে রয়েছে একটি কালোত্তীর্ণ ক্যানভাস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গ্রামীণ সমাজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেজবাউর রহমান সুমন, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান (রাখাল সাধু)
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!