📌 বিনোদ খান্না বলিউডের জনপ্রিয় খলনায়ক থেকে নায়ক হয়ে উঠেন। কিন্তু ক্যারিয়ার শীর্ষে পৌঁছানোর পর তিনি সব ছেড়ে ওশোর আশ্রমে মালি হিসেবে কাজ করেন। আজ তাঁর ৮০তম জন্মদিনে তাঁর জীবনের এই অবিশ্বাস্য মোড়গুলো নিয়ে ফিরে দেখা যাচ্ছে
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার অধিকারী ছিলেন বিনোদ খান্না। একসময় তাঁর চেহারা আর অভিনয়শৈলী দর্শকদের মন জয়ের মতো ছিল। খলনায়ক থেকে শুরু করে নায়ক হয়ে উঠেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর পর হঠাৎ সবকিছু ছেড়ে দেন। ওশো রজনীশের শিষ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রমে মালি হিসেবে কাজ করেন। সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল তাঁর আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর আগ্রহ। আজ তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর এই অবিশ্বাস্য জীবনযাত্রার গল্পগুলো ফিরে দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৪৬ সালের ৬ অক্টোবর পেশোয়ারে জন্মগ্রহণ করেন বিনোদ খান্না, যিনি পরবর্তীকালে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হন
- 📌 ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’-এ ডাকাত জব্বর চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের নজর কাড়েন এবং ধীরে ধীরে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান
- 📌 ১৯৭৫ সালে ওশো রজনীশের শিষ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রমে প্রায় পাঁচ বছর মালি হিসেবে কাজ করেন, সবকিছু ছেড়ে দেন
- 📌 ২০১৭ সালে ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তাঁর জীবন বলিউডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী তারকাযাত্রার একটি হয়ে থাকে
- 📌 রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি মন্ত্রীও হন এবং পরবর্তীকালে তাঁর ছেলে অক্ষয় খান্না বলিউডে অভিনয় করেন
📰 বিস্তারিত
বিনোদ খান্না বলিউডের ইতিহাসে এমন একজন অভিনেতা যিনি খলনায়ক থেকে শুরু করে নায়ক হয়ে উঠেন। তাঁর অভিনয়শৈলী এবং চেহারা দর্শকদের মন জেতে পারত। ১৯৬৮ সালে সুনীল দত্তর পরিচালিত ‘মন কা মিত’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। শুরুতে তিনি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও ধীরে ধীরে তিনি নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। বিশেষ করে ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’-এ ডাকাত জব্বর চরিত্রটি তাঁকে আলাদা করে পরিচিত করে। সেই সময়েই গুলজারের ‘মেরে আপনে’ তাঁকে নায়কোচিত চরিত্রের দিকে এগিয়ে দেয়। ১৯৭৩ সালে ‘আচানক’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং তিনি দর্শকের প্রিয় নায়ক হয়ে উঠেন।
সত্তরের দশকে বিনোদ খান্না অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ‘আমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দার’ এবং ‘কুরবানি’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁদের পারস্পরিক রসায়ন দর্শকদের মন জেতে পারত। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে বলিউডের বড় তারকা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। কিন্তু ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর পর তিনি হঠাৎ সবকিছু ছেড়ে দেন। ১৯৭৫ সালে ওশো রজনীশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় এবং তিনি আধ্যাত্মিকতার পথে চলে যান। যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রমে প্রায় পাঁচ বছর মালি হিসেবে কাজ করেন এবং তারকার পরিচয় ভুলে থালাবাসন পরিষ্কার করেন।
বিনোদ খান্নার এই সিদ্ধান্তের প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে। তাঁর প্রথম বিবাহিত জীবনে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি খান্নার সাথে ১৯৮৫ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি কবিতা দফতরিকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুই সন্তান সাক্ষী ও শ্রদ্ধা। তাঁর ছেলে অক্ষয় খান্না বলিউডে অভিনয় করেন এবং তিনি তাঁর বাবার সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছেন।
"অর..."
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পেশোয়ার (জন্ম), মুম্বাই (অভিনয় জীবন), যুক্তরাষ্ট্র (আশ্রম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিনোদ খান্না, সুনীল দত্ত, অমিতাভ বচ্চন, ওশো রজনীশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ (জন্মবার্ষিকী), ৭০ (মৃত্যুবয়স), ৬ (অক্টোবর), ১৯৭৫ (আশ্রমে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!