📌 বিএনপি নেতা তারেক রহমান ২০ অক্টোবর রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রদর্শন করেন। এই উদ্যোগ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬: সম্প্রীতির উৎসব সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বার্তা
২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, এই বছর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি বিভাগীয় শহরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন। তিনি ২০ অক্টোবর মহা নবমীতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়াও তিনি আগে থেকে রাজধানীর মোহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
এই উদ্যোগের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীর বাইরে তিনটি বিভাগীয় শহরে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন নিছক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নাগরিকদের প্রতি সম্মান, সংহতি ও নিরাপত্তার আশ্বাসের প্রতীক। এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের প্রতিটি প্রান্তের নাগরিক সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকারী।
বিএনপি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই অঙ্গীকারের একটি দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত। তবে রাজনৈতিক আদর্শের প্রকৃত প্রমাণ শুধু প্রতীকী উপস্থিতি নয়; বরং সারা বছর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
গত ১৭ বছরে পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ৩,৭১০টি হামলার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এই ইতিহাসের আলোকে, ২০২৬ সালের পূজার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা মূল্যবান হলেও, কোনো একটি বছরের শান্তিপূর্ণ উৎসব অতীতের সমস্যার অবসান প্রমাণ করে না।
বিএনপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগকে সাম্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশের একটি আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। এই উদ্যোগের স্থায়ী মূল্য নির্ভর করবে তার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে নিজেদের বিশ্বাস পালন করতে পারেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার না হন এবং অপরাধের ক্ষেত্রে সমান বিচার পান, সেটিই হবে প্রকৃত সাফল্য।
মূলমন্ত্র ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’ কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও নাগরিক অধিকারের অঙ্গীকার। বাংলাদেশের শক্তি তার বৈচিত্র্যে, আর ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্যে।
লেখক: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম 🌿🙏🇧🇩
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!