📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১৬ হাজার কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও নতুন পদে ১৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। গ্রাহকদের ৯৮% আমানত ফেরত পাচ্ছেন না এবং বেতনবৈষম্য জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নিয়োগের প্রয়োজন ছিল
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১৬ হাজার কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও নতুন পদে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের জটিলতা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ হাজার কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে ১৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছে, যার বেতন বর্তমান কাঠামোর তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি
- 📌 নিরাপত্তা বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকের পরিচালনায় নতুন দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে
- 📌 গ্রাহকদের ৯৮ শতাংশ আমানত ফেরত পাচ্ছেন না, এবং মেয়াদি আমানতের মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন
- 📌 কর্মচারীদের মধ্যে বেতনবৈষম্য দেখা দিয়েছে, একই পদে ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের পার্থক্য রয়েছে
- 📌 সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান বলেছেন, নতুন নিয়োগের সংখ্যা প্রায় ১৫ জন, তবে বিদ্যমান কর্মীদের কাজে লাগিয়ে ব্যাংক পুনর্গঠনের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
দুর্বল অবস্থায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১৬ হাজার কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও নতুন পদে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাংকটি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের একীভূতকরণের ফলাফল।
সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে অন্য ব্যাংক থেকে ১৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বেতন বর্তমান কাঠামোর তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। এছাড়া নিরাপত্তা বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় নির্দিষ্ট দক্ষতা বা নতুন প্রজন্মের জনবলের প্রয়োজন ছিল। তবে একই সময়ে প্রায় ১৬ হাজার কর্মীর পদায়ন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের কাজ চলায় নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, একীভূতকরণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পাঁচটি ব্যাংকের সম্পদ ও জনবলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, প্রায় ৯৮ শতাংশ আমানতকারী এখনো তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনেকেই টাকা পাননি।
বেতনবৈষম্যও ব্যাংকটির বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, একই পদ, গ্রেড ও দায়িত্বে কাজ করলেও সাবেক ব্যাংকভেদে বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জুনিয়র অফিসার থেকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই ব্যবধান ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। কর্মীদের দাবি, অভিন্ন সার্ভিস রুলস, পদবিন্যাস ও বেতনকাঠামো চালুর প্রয়োজন রয়েছে।
"আগের ব্যবস্থাপনার কিছু দুর্বলতার কারণে ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এ বিবেচনায় বাইরে থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১৫ জন হবে। তবে বিদ্যমান জনবলকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংক পুনর্গঠনেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এখনই যেন তা বড় আকারে না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আগে ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিতে হবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের এ বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, নতুন নিয়োগের বিষয়টি তিনি এখনো জানেন না। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এখন পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে একই ব্যাংকে ভিন্ন বেতনকাঠামো থাকলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী শায়রুল হাসান (চেয়ারম্যান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক), ড. জাহিদ হোসেন (বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ), আরিফ হোসেন খান (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র), মো. তৌহিদুল ইসলাম (ইউনিয়ন ব্যাংকের গ্রাহক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ হাজার কর্মচারী, ১৮ জন নতুন নিয়োগ, ৯৮ শতাংশ আমানতকারী, ২০ লাখ টাকা আমানত, ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পার্থক্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!