📌 আর্থিক অস্থিতিশীলতা, ঋণ কেলেঙ্কারি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত, বিনিয়োগ ও সম্পদ বৃদ্ধির হার প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে
আর্থিক অস্থিতিশীলতা, ঋণ কেলেঙ্কারি ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলোর গ্রাহক আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে আমানত, বিনিয়োগ ও মোট সম্পদ বৃদ্ধির হার প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালের আগস্টে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছরে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে — প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ১১.৩৫ শতাংশ কম বৃদ্ধি
- 📌 ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ — প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ৫.৬২ শতাংশ কম
- 📌 মোট সম্পদ বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ — প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ৫ শতাংশ কম
- 📌 ২০২২ সালের দুটি ইসলামি ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনা আস্থা হ্রাসের মূল কারণ
- 📌 এজেন্ট ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকগুলোর দখলে — প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ৩ শতাংশ কম
- 📌 ইসলামি ব্যাংকগুলোর কর্মী সংখ্যা এক বছরে ৬ শতাংশ কমে ৪৪ হাজার ৭৮২ জনে নেমেছে
- 📌 রপ্তানি আয় সংক্রান্ত প্রাপ্তি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৩৬ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, কিন্তু রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে এই আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর আমানত একই সময়ে ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ। আগস্টে তাদের বিনিয়োগ পরিমাণ ৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচলিত ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
মোট সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর অবস্থা পিছিয়ে। এক বছরে তাদের মোট সম্পদ বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক রয়েছে, যার মধ্যে ৫টি ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও, ১৭টি প্রচলিত ব্যাংকের ৪৯টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা এবং ১২টি ব্যাংকের ৬৩২টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বর্তমানে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।
"মূলত ২০২১ সাল থেকে আগ্রাসী ঋণ বিতরণের কারণে ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। পরে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে আসতে থাকে। কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমতে থাকে।"
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ২০২৫ সালের আগস্টের পর সংকটের নানা তথ্য প্রকাশ্যে এলে আমানত ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর অবস্থাও মিশ্র। ২০২৬ সালের আগস্টে এই খাতের ব্যাংকগুলোর রপ্তানি আয় সংক্রান্ত প্রাপ্তি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৩৬ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে রেমিট্যান্স ৬৩০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মুস্তফা কে মুজেরী, আরিফ হোসেন খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা (আমানত), ৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা (বিনিয়োগ), ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ (সম্পদ বৃদ্ধি), ৪৪ হাজার ৭৮২ জন (কর্মী), ৭৩৬ মিলিয়ন ডলার (রপ্তানি আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!