📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কথায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরিবারতন্ত্রের আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালক পদে এক পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এখন বিএনপি সরকারও পরিবারতন্ত্রের পর্দা ফাটলো না, শুধু নামের পরিবর্তন করছে। ১১ জন বড় ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আইএমএফ সতর্কতা জারি করেছিল
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের পরিবারতন্ত্রের প্রকৃত রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে না, শুধুমাত্র পরিচালকদের নামের পরিবর্তন ঘটছে। প্রাক্তন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও প্রাক্তন ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কথায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরিবারতন্ত্রের আইন সংশোধন করে এক পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাড়ানো হয়েছিল। এখন বিএনপি সরকারও পরিবারতন্ত্রের পর্দা ফাটলো না, শুধু নামের পরিবর্তন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৩ সালে সরকার আইন সংশোধন করে এক ব্যক্তি একই ব্যাংকের পরিচালক পদে সর্বোচ্চ ১২ বছর থাকতে পারবেন, এরপর তিন বছর বিরতি দিয়ে আবার পরিচালক হতে পারবেন।
- 📌 আবুল মাল আবদুল মুহিত (তৎকালীন অর্থমন্ত্রী) বলেছিলেন, সংশোধনীটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
- 📌 ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ১১ জন বড় ঋণখেলাপির ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল।
- 📌 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মন্তব্য করেছিল, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
- 📌 অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক সংস্কারের প্রস্তাব ছিল এক পরিবারের দুজন পরিচালক থাকার, কিন্তু বর্তমান সরকার আবার তিনজন পরিচালক থাকার সুযোগ দিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
প্রাক্তন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কথায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকে এক পরিবার থেকেই পাঁচজন পরিচালক ছিলেন। যদিও তখন ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক থাকার বিধান ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে বাকি তিনজনকে পদত্যাগ করার জন্য অনুরোধ জানায়, কিন্তু ব্যাংকটি জবাব দিতে চায়নি। এরপর সরকার আইন সংশোধন করে এক পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকার সুযোগ করে দেয়। তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি সংসদে সংশোধনী বিল পাসের সময় বলেছিলেন, ‘এই সংশোধনী বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে’। তবে ভেতরে কথা ছিল, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ।
২০২৩ সালে সরকার আবার আইন সংশোধন করে, এক ব্যক্তি একই ব্যাংকের পরিচালক পদে সর্বোচ্চ ১২ বছর থাকতে পারবেন। এরপর তিন বছর বিরতি দিয়ে আবার পরিচালক হতে পারবেন। এই আইনের কারণে ব্যাংকে পরিবারতন্ত্র কায়েম হয় এবং কয়েকটি পরিবারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে ব্যাংক। বলা হয়, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যাংকমালিকদের পরিবারতন্ত্র উপহার দিয়েছিল সরকার। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আবার একটি উপহার পেয়েছিলেন তাঁরা।
ব্যাংক খাতের পরিবারতন্ত্রের কারণে দেশের ব্যাংক খাত এখন দুর্দশায়। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে অর্থনীতির মন্দা উত্তরণের জন্য সংস্কার চায়। কিন্তু ব্যাংক সংস্কারের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রের পর্দা ফাটলো না, শুধু নামের পরিবর্তন হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রস্তাব করেছিল এক পরিবারের দুজন পরিচালক থাকার, কিন্তু বর্তমান সরকার আবার তিনজন পরিচালক থাকার সুযোগ দিচ্ছে। এমনকি ঋণখেলাপি পরিচালকদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান থাকছে না।
“সংশোধনীটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল মাল আবদুল মুহিত (অর্থমন্ত্রী), খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ (প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর (মেয়াদ), ১১ জন (ঋণখেলাপি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!