📌 অগ্রণী ব্যাংক ৬৯৮ দৈনিক মজুরি কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া মেধাভিত্তিক নিয়োগ নীতির বিরুদ্ধে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪০% এর বেশি থাকা অবস্থায় এ পদোন্নতির আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংক ৬৯৮ জন দৈনিক মজুরি কর্মচারীকে সহকারী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নীতির প্রশ্ন উঠেছে এবং ব্যাংকের পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অগ্রণী ব্যাংক ৬৯৮ জন দৈনিক মজুরি কর্মচারীকে সহকারী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে পড়েছে
- 📌 নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করার কারণে কর্মকর্তারা মেধাভিত্তিক নিয়োগ নীতির প্রশ্ন তুলেছেন
- 📌 ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সরকারি নিয়মের বিরুদ্ধে বলে অভিযোগ
- 📌 ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪০% এর বেশি এবং প্রভিশন ঘাটতি ১৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এ পদোন্নতির আর্থিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
- 📌 কর্মকর্তারা বলছেন, এ পদোন্নতির ফলে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং সাংগঠনিক কাঠামোতে অসঙ্গতি সৃষ্টি হবে
📰 বিস্তারিত
অগ্রণী ব্যাংক ২০১০ সালে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োগ করা ৬৯৮ জন কর্মচারীর মধ্যে ৬৯৮ জনকে সহকারী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের মানবসম্পদ পরিকল্পনা বিভাগের ১২৯১ নম্বর স্মারক অনুযায়ী, ‘অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি. (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৫’-এর খসড়া তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটি গত ১২ এপ্রিল থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতটি সভায় আলোচনা করেছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ১৯ আগস্ট সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এ সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা আবশ্যক। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক এসব নিয়ম লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪০% এর বেশি এবং প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় ৭০০ কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং সাংগঠনিক কাঠামোতে অসঙ্গতি সৃষ্টি হবে। তারা আশঙ্কা করছেন, এ পদোন্নতির ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকের নিয়োগব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
"নিয়োগের সময় লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া না হলে এবং পরে তাদের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতি প্রশ্নের মুখে পড়বে। এতে সরকারি ব্যাংকে চাকরিপ্রত্যাশী অন্য প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, অগ্রণী ব্যাংক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা, চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৯৮ জন কর্মচারী, ৪০% খেলাপি ঋণ, ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!