📌 তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের ভাষণে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে স্পষ্ট করেছেন যে বেইজিংয়ের অধীনতা না মেনে শান্তি বজায় রাখা এবং যুদ্ধ প্রতিহত করতেই সামরিক খাতে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানিয়েছেন যে তার দেশ শান্তিকে লালন করে এবং নিজেদের স্বাধীনতা কখনো বিসর্জন দেবে না। তাইপের প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের সামনে আয়োজিত জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ ও বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৭ সালের জন্য তাইওয়ান রেকর্ড ১.১ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার (৩৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট নির্ধারণ করেছে, যা মোট জিডিপির ৩ শতাংশের বেশি।
- 📌 তাইওয়ান প্রণালীতে সামরিক মহড়া ও 'গ্রে-জোন' তৎপরতার মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বেইজিং।
- 📌 চীনের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের অস্তিত্বের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছেন লাই।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তাইপে।
📰 বিস্তারিত
১৯১১ সালের বিপ্লবের ১১৫তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আগে তাইওয়ানের যুদ্ধবিমান এবং জাতীয় পতাকা বহনকারী দুটি চিনুক হেলিকপ্টার রাজধানী তাইপের আকাশে উড়ে যায়। মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে পরাজিত হয়ে ১৯৪৯ সালে চিয়াং কাই-শেকের জাতীয়তাবাদী বাহিনী দ্বীপে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই রিপাবলিক অব চায়না নিজেদের সার্বভৌম সত্তা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে চীন এখনও দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জোর দিয়ে বলেন যে কেবল শুভেচ্ছার ওপর নির্ভর করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না এবং আগ্রাসীদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। ওয়াশিংটন প্রায় ৫০ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেইজিংয়ে স্থানান্তর করলেও তাইওয়ানের প্রধান নিরাপত্তা সহায়ক হিসেবে যুক্তরাষ্টই রয়েছে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর তাইওয়ানকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দরকষাকষির উপাদান হিসেবে দেখার ইঙ্গিত তৈরি হয়েছিল।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লাই বলেন যে আত্মরক্ষার সামর্থ্য বাড়ানো উসকানি নয়, বরং সংঘাত এড়ানোর অন্যতম উপায়। একই সাথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলের ওপর নজরদারির অভিযোগে এক চীনা গুপ্তচরকে গ্রেফতার করেছে এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাপ্রধানরা জাপান বা যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
"আমরা যোগাযোগ ও বিনিময়ের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু কোনো ধরনের অধীনতা মেনে নেব না। জাতীয় প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য উসকানি দেওয়া নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিহত করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস প্রাঙ্গণ, তাইপে, তাইওয়ান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.১ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার (৩৪.৫ বিলিয়ন ডলার), ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যা, ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!